এইমাত্র পাওয়া

১ শিক্ষকের ১স্কুলে শিক্ষার্থি ১২৪ জন

অনলাইন ডেস্ক।।

ভোলার লালমোহনের কুমারখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্যে রয়েছে মাত্র একজন শিক্ষক। ওই একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে বিদ্যালয়টির পাঠদান ও সকল প্রকার প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২৪ জন।
একমাত্র শিক্ষিকা কাজল রেখা জানান, বিদ্যালয়ের ৫টি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানের দায়িত্বের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অফিসিয়ালি যাবতীয় দায়িত্ব আসে তার কাঁধে। একাই সবকিছু করলেও বিদ্যালয়টি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও তাকেই করতে হয়। কারণ বিদ্যালয়ে নেই চতুর্থ শ্রেণির কোনো কর্মচারী।
সূত্র জানায়, সরকারি এই প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কুমারখালী গ্রামে অবস্থিত। এটি ১৬৩নং কুমারখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত। বিদ্যালয়টি ১৯৯১ সালে স্থাপিত হওয়ার পর ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়।
জানা গেছে, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে একজন প্রধান শিক্ষক ও তিনজন সহাকারী শিক্ষক ছিলেন। তবে পর্যায়ক্রমে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকসহ একে একে তিনজন শিক্ষক অবসর গ্রহণ করেন। এরপর কাজল রেখা ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
শিক্ষিকা কাজল রেখা বলেন, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খোলার পর পুরো বিদ্যালয়ের পাঁচ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একাই পাঠদান করাতে হচ্ছে তাকে। এতে করে চরম বিপত্তিতে পড়েছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, একজন শিক্ষিকা দিয়ে পুরো স্কুলের এত শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা সম্ভব না। এতে করে একদিকে শিক্ষিকার ওপর যেমন মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়, অপরদিকে শিক্ষার্থীদেরও পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটে। তাই অতি দ্রুত বিদ্যালয়ে আরো শিক্ষক বাড়ানোর দাবি তাদের।
লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আক্তারুজ্জামান মিলন বলেন, আগে বিষয়টি জানা ছিল না, এখন জেনেছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.