নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
করোনায় দেড় বছরেরও বেশি সময় স্কুল বন্ধ। অনলাইনে ক্লাস করা ছাড়া আর তেমন কিছুই করার নেই। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবেই গৃহবন্দি সময় কাটাচ্ছে শহুরে শিশুরা। প্রযুক্তির আসক্তি থেকে দূরে রাখতে তাই বাবা-মা’রা খুঁজছেন ভিন্ন পন্থা। ব্যস্ত রাখতে গৃহেই বিড়াল, কুকুর ও পাখি পালনে উৎসাহিত করছেন সন্তানদের। এই পন্থা অবলম্বন করে এর মধ্যে সুফল পেয়েছেন তারা। বাচ্চারাও এসব প্রাণীদের সঙ্গে আনন্দে সময় পার করছেন। পাঁচ বছর বয়সী হেরা।
পড়ে ওয়াই ডব্লিউ সি স্কুলে। তার সকাল শুরু হয় পাখিদের সঙ্গে। পাখিকে গুড মর্নিং জানিয়ে সে বসে যায় অনলাইন ক্লাসে। অনলাইন স্কুল শেষ করেই আবার পাখির সঙ্গে খেলা। চোট্ট এই বাজরি পাখি কখনো হেরার কাঁধে আবার কখনো মাথায় আবার কখনো হাতে করে ঘুরে বেড়ায়। খাঁচাতে কিছুতেই থাকতে চাই না সে। পাখিকে গান শোনায় হেরা। আবার কখনো নাচ দেখায়। হেরা নাচলে বাজরিও তার সঙ্গে পাখা ঝাপটায়। সারাদিন পাখির সঙ্গে খুনসুটি। হেরা বলে, পাখিরাই আমার বন্ধু। আগে তো স্কুলে যেতাম তখন বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পারতাম। অনেকদিন স্কুলে যাই না- তাই বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পারি না।
এখন বাজরি আমার প্রিয় বন্ধু। আমি ভাত খেতে বসলেও আমার প্লেটে ঠোকর দিয়ে ভাত খায়। আমার সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলে। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। হেরার বাবা আমিন আল রশিদ নেক্সাস টেলিভিশনের এডিটর কারেন্ট অ্যাফেয়ার পদে কর্মরত আছেন। আমিন আল রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গৃহে বন্দি থেকে শিশুদের মধ্যে একঘেয়েমি ভাব চলে এসেছে। তারা টিভি, মোবাইল কিংবা আইপ্যাড এসব ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আমার সন্তানকে এসব থেকে দূরে রাখতে আমি বাসায় পাখি নিয়ে আসি।
পাখি দেখে হেরা তো ভীষণ খুশি। সে এখন পাখি নিয়ে বেশি সময় কাটায়। আমার বাসায় এগারো জোড়া পাখি আছে। কিন্তু হেরার সবচেয়ে প্রিয় ছোট বাজরি পাখি। এই পাখির জন্ম আমার বাসায়। বাচ্চা পাখিটির জন্মের পরই তার বাবা ও মা পাখি তাকে খাঁচা থেকে বের করে দেয়। তখন হেরা ও তার মা পরম যত্নে পাখিটিকে লালন পালন করে। সেই থেকে পাখিটি আর খাঁচায় থাকতে চায় না। সারাক্ষণ হেরার সঙ্গে থাকে। দেখা যায় গরমের মধ্যে হেরা ফ্যান না চালিয়ে পাখিটি নিয়ে খেলতে থাকে। ফ্যান চালালে যদি পাখিটি ফ্যানের সঙ্গে বাড়ি খায় এই ভয়ে সে ফ্যানও বন্ধ রাখে।
আসকি আর স্টিনা দুই বোনের একমাত্র প্রিয় বিড়াল ব্রাউনি। একমাস বয়সে আসকি তার বন্ধুর বাসা থেকে নিয়ে আসে ব্রাউনিকে। ফিডারে করে দুধ খেয়ে বড় হয় সে। এখন ব্রাউনির বয়স তিন মাস। বড় হচ্ছে আর দুষ্টু হচ্ছে ব্রাউনি। স্টিনা ক্লাস নাইনে পড়ে। স্টিনা বলে করোনার পর থেকে সময় কাটতেই চাইতো না। মা বেশিক্ষণ টিভি দেখলেও বকা দিতো আবার মোবাইল চালালেও রাগ করতো। সারা দিন শুধু পড়তে বলতো। কিন্তু আমার পড়তেও ভালো লাগতো না।
কিন্তু ব্রাউনি আসার পর থেকে আমার খুব ভালো লাগে। সারাদিন আমার কোল ঘেঁষে থাকে। ঘুমালেও আমার পায়ের কাছে গিয়ে শুয়ে থাকে। তবে ব্রাউনি এখন অনেক চঞ্চল হয়ে উঠছে। সুযোগ পেলে পাশের ফ্ল্যাট আমিনাদের বাসায় চলে যায়। ওর জন্য দরজা খোলাই যায় না। স্টিনার মা কৃপা রিচিল বলেন- বাচ্চারা সব সময় চাইতো বাসায় বিড়াল পুষতে। কিন্তু আমার কাছে ঝামেলা মনে হতো। তাই আগে ওদের বিড়াল আনতে দিতাম না। কিন্তু করোনায় দীর্ঘ সময় ঘরে বসে বাচ্চারা কেমন যেনো ঝিমিয়ে যাচ্ছিল। তাই বিড়ালটা বাসায় নিয়ে আসি। দেখলাম বিড়াল পেয়ে তারা বেশ কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে। আমার মনে হয় প্রযুক্তির আসক্তির চেয়ে বিড়াল নিয়ে ব্যস্ত থাকা অনেক ভালো।
যেহেতু আমরা ফ্ল্যাটে থাকি তাই বিড়ালই আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে। পুরো করোনা সময়টি বাড়ির লনে এনজির সঙ্গে খেলাধুলা করেই কাটছে নাফির। নাফি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। এনজি হচ্ছে নাফির প্রিয় কুকুর। বাড়ির ভেতর বড় জায়গায় নাফি আর এনজির চলে দৌড় প্রতিযোগিতা। এনজি ভীষণ তৎপর বাড়ির প্রধান ফটকে কারো পা পড়লেই শুরু করে দেয় ঘেউ ঘেউ। নাফি বলে করোনার পুরো সময়টাই বাড়িতে আটকে আছি। শুধু ঘর থেকে বের হয়ে লনে এনজির সঙ্গে খেলাধুলা করি।
আর সারাদিন অনলাইনে ক্লাস আর পড়াশুনা। এ ছাড়া তো আর কোনো কাজ নাই। রিক্রেশেন বলতে শুধু এনজিই আছে। মৌমিতা পড়ে ক্লাস এইটে। অনেকদিন ধরে তার বায়না সে বিড়াল পুষবে। একদিন ড্রাইভার চাচ্চু কোলে করে একটা বিড়ালের বাচ্চা এনে দেয় তাকে। মৌমিতা বলে, আমার বিড়ালের নাম কাক্কা। ওর বয়স এখন ছয় মাস। ওকে পেয়ে আমি খুব খুশি। এখন আর আমার কোনো বন্ধুর দরকার নেই। সে আমার প্রিয় বন্ধু। তবে কাক্কা বেশি মোটা হয়ে যাওয়াতে এখন সে কেমন যেন লেইজি হয়ে গেছে। বেশিক্ষণ খেলতে চায় না, শুধু শুয়ে থাকতে চায়।সুত্র মানবজমিন
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
