নিজস্ব প্রতিনিধি।।বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার জন্য ১১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’। অনলাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীনের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আরাফাত রহমান, ঢাবি শিক্ষক কাজী মারুফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
১১ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে-
১. বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সেটি না করলে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসাবে শিক্ষকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেওয়া শুরু করবেন।
২. ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ফেরার সুযোগ করে দিতে হবে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রথম থেকেই পূর্ণ কার্যক্রম শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাই আবাসিক হলে প্রথমে শুধু অনার্স ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থী, যারা শিক্ষা জীবনের শেষের দিকে রয়েছে তাদের ওঠার অনুমতি থাকবে। আবাসিক হলে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত না করে এসব পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার কোনো কার্যক্রম শুরু করা যাবে না। এসব ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী ব্যাচগুলোর ধাপে ধাপে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। প্রাথমিক ধাপে যে শিক্ষার্থীরা হলে থাকবে আর যারা বাড়ি থেকে আসবে তাদের পরীক্ষা আলাদা রুমে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৩. ছাত্রাবাসগুলোর আবাসিক ব্যবস্থা খুবই খারাপ। ভবিষ্যতে যেন কোনো আবাসিক হলে গণরুম নামক ব্যবস্থা থাকতে না পারে তার সমাধানে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাত্রাবাসগুলোতে যাতে শুধু শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবস্থান করতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া হলগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে কাজ করে পুরোদমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে আবাসিক হলের অবস্থা আর আগের মতো থাকতে পারে না। করোনার এ দুর্যোগ পক্ষান্তরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একটি সুযোগ এনে দিয়েছে আবাসিক হলগুলো ঢেলে সাজানোর। তাই আবাসিক ব্যবস্থাকে উন্নত করার পরিকল্পনা প্রশাসন ও সরকারকে এখনই ভাবতে হবে। আবাসিক হল ব্যবস্থাপনা পরিপূর্ণভাবে শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে নয়।
৪. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা টেস্ট ও টিকাদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্যাম্পাসে ব্যবস্থা করা গেলে সবচেয়ে ভালো হয়, তাতে শিক্ষার্থীরা ভিড় এড়িয়ে টিকা নিতে পারবে।
৫. ক্যাম্পাসগুলোতে অবস্থিত মেডিকেল সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইসোলেশনের ব্যবস্থা, অসুস্থ হলে শিক্ষার্থীদের দেখাশোনার ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে জেলা বা বিভাগীয় সদর হাসপাতালের আইসিইউ শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের প্রয়োজনে বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান শুরু করতে হবে। তবে এখানেও করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ৫০ শতাংশ অনলাইন ও ৫০ শতাংশ অফলাইন ক্লাস চালু করা যেতে পারে। ৫০ শতাংশ অফলাইন ক্লাসের মধ্যে ব্যবহারিক ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম যা অনলাইনে করা কঠিন সেসব থাকতে পারে।
৭. এছাড়া অনলাইন ক্লাসেও হাইব্রিড পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। যে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসতে পারবে, তারা সশরীর অনসাইট ক্লাস করবে। যারা পারবে না তারা অনলাইন ক্লাসে যোগ দেবে। ক্লাসে এসে অসুস্থ হলে সে অনলাইনে চলে যাবে। কিন্তু যারা ক্লাসে এসেছে তাদের ও শিক্ষকের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস করার ভালো ব্যবস্থা তৈরি রাখতে হবে। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে, আবার পুরো অনলাইনে যাওয়া যেতে পারে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার যেন হাইব্রিড পদ্ধতিতে ফিরে আসা যায় তার প্রস্তুতি রাখতে হবে।
৮. শিক্ষকদের অনলাইন টিচিং লার্নিং ম্যানেজমেন্টের সিস্টেম তৈরি করার জন্য প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা কমিটি গঠন করে এর কাজ শুরু করতে হবে ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. এখন প্রচুর মানুষই (শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়) আছেন, যারা আগে কখনো মানসিক সমস্যায় ভোগেননি। কিন্তু বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে উপর্যুপরি লকডাউনের চাপে সামাজিক সম্পর্কের শিথিলতা, সামাজিক মেলামেশা বন্ধ থাকা, পরিবারের সদস্যের মৃত্যু বা অসুস্থতা, নিজের অসুস্থতা বা ভয় ইত্যাদি নিয়ে বেশির ভাগ মানুষই দারুণ মানসিক চাপে আছেন। অনেকেই অ্যাংজাইটি বা ডিপ্রেশন ইত্যাদি গুরুতর মানসিক ব্যধিতে ভুগছেন।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
১০. অনলাইনে সুষ্ঠুভাবে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সার্ভিসের বিশেষ প্যাকেজ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
১১. ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার সেফটি নেটের ব্যবস্থা করতে হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
