নিজস্ব প্রতিনিধি।।
গৌরীপুর উপজেলার শালিহর গ্রামে বধ্যভূমিতে নবনির্মিত স্মৃতিসৌধের নামফলকে গণশহীদদের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লেখা হয়েছে। শনিবার (২১ আগস্ট) বধ্যভূমিতে গণশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় বিষয়টি স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের দৃষ্টিগোচর হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করে গণশহীদদের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সচেতন মহলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উপজেলা প্রশাসন ও ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগ এ ভুলের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রহিম জানান, ১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা রেলযোগে গৌরীপুরে আসে। এদিন তারা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজতে গিয়ে পশ্চিম শালিহর গ্রামে হানা দিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল হাসিমের বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। এ সময় হানাদাররা ধরে নিয়ে যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসিমের বাবা ছাবেদ হোসেন বেপারিকে।
এর আগে ১৬ মে ধরে নিয়ে যায় সাংবাদিক সুপ্রিয় ধর বাচ্চুর বাবা মধুসূদন ধরকে। তিনি বলেন, হানাদার বাহিনী এদিন অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে ক্ষান্ত হয়নি, এ গ্রামের ১৪ নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে শালিহর কদমতলা নামক স্থানে ব্রাসফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে সেখানেই তাদের কবর দেওয়া হয়। হানাদার বাহিনীর ব্রাসফায়ারে গণশহীদরা হলেন- এ উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের শালিহর গ্রামের মোহিনী মোহন কর, জ্ঞানেন্দ্র মোহন কর, যোগেশ চন্দ্র বিশ্বাস, নবর আলী, কিরদা সুন্দরী, শচীন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস, তারিনী কান্ত বিশ্বাস, খৈলাস চন্দ্র নমদাস, শত্রুগ্ন নমদাস, রামেন্দ্র চন্দ্র সরকার, অবনী মোহন সরকার, দেবেন্দ্র চন্দ্র নমদাস, কামিনী কান্ত বিশ্বাস ও রায় চরণ বিশ্বাস।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মো. নাজিম উদ্দিন জানান, মুক্তিযুদ্ধে গণশহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শালিহর বধ্যভূমিতে সম্প্রতি স্মৃতিসৌধ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগ। শনিবার গণহত্যা দিবসে বধ্যভূমিতে গণশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় দেখতে পান স্মৃতিসৌধের শে^তপাথরের নামফলকে গণশহীদদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির সামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে এ ভুলটি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান চুন্নু সাংবাদিকদের জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গণশহীদদের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখপূর্বক তালিকা মোতাবেক বধ্যভূমির স্মৃতিসৌধের নামফলকে তাদের নাম লেখা হয়েছে। আর এ তালিকা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তা ছাড়া নবনির্মিত স্মৃতিসৌধ হস্তান্তরের সময় এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো অভিযোগ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে উল্লেখিত ব্যক্তিদের গণশহীদ হিসেবে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের প্রেরিত তালিকায় কাউকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সুতরাং এ ভুলের দায় ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ভুলটি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবগত করবেন বলে তিনি জানান।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
