নুর আলম বর্ণ, নীলফামারী:
ফুল ও ফলের বাহারী গাছপালায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে পাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাদ বাগনটি। নিজস্ব শ্রম, মেধা আর অর্থ খরচ করে দৃষ্টিনন্দন এই বাগানের পরিচর্যা করে সকলকে তাক দিয়েছে সুকুমার রায় নামের একজন সহকারী শিক্ষক। করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকলেও থেমে নেই বাগান পরিচর্যার কাজ। শিক্ষার্থীদের কৃষি ব্যবহারিক ক্লাসেও ছাদ বাগানটি গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে দাবী সংশ্লিষ্ঠদের।
বাগানে ধরেছে নানা রঙ্গের বাহারী ফল। ফুলের গন্ধে নাচচে প্রজাপতি, মধু আহরন করছে মৌমাছি। ফল গাছে বিভিন্ন পাখি এসে খাচ্ছে ফল। নিজের অর্থায়নে গড়া বাগানটির উদ্যোক্তা সুকুমার রায় শিক্ষার্থীদের কোলহল মুক্ত মনোরম পরিবেশে এ দৃশ্য উপভোগ করছেন মনের আনন্দে। সখের বসে প্রায় চার বছর আগে নীলফামারী ডোমার উপজেলার পাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাদ কৃষি করার উদ্যোগ গ্রহন করে সহকারী কৃষি শিক্ষক সুকুমার রায়। বিদ্যালয়টির ছাদে চারটি আম গাছ ও কয়েকটি ফুলের চারা রোপন করে যাত্রা শুরু করলে অনুপ্রেরণা যোগায় সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাব। তারপর থেকেই প্রতি মাসে বেতনের সাথে সাথে বাড়তে থাকে চারার সংখ্যা। বিদ্যালয়টির ছাদ এখন ভরে গেছে ফুল,ফল,বনজ,ভেষস, ঔষধী, সব্জিসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় শতাধিক চারায়। আর এই বাগানেই শিক্ষার্থীদের দেয়া হয় হাতে কলমে শিক্ষা। মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবে বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকলেও থেমে নেই বাগানের পরিচর্যার কাজ। নিজের সন্তানের মতো বাগানের যতœ নিয়ে দিন কাটছে এই উদ্যোক্তার।
কৃষি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক সুকুমার রায় বলেন, বিদ্যালয়টিতে ভবন হওয়ার পরেই শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষার মান উন্নতির জন্য কয়েকটি চারা রোপন করে এই ছাদ বাগানের যাত্রা শুরু হয়। প্রতি মাসে বেতনের টাকা তুলে টপ নয় তোবা গাছের চারা কিনে পুরো ছাদে বাগান করতে সক্ষম হয়েছি। এখানে শিক্ষার্থীরা প্রাক্টিক্যাল ক্লাস করে। করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী না আসলেও আমাকে আসতে হয়েছে গাছের পরিচর্যা নিতে। কারণ এখানে ছোট ছোট টবের মধ্যে গাছ তাই আসতে হয়েছে। তাছাড়া এ বাগানের প্রতিটি গাছ এখন আমার সন্তানের মতো।
সহকারী শিক্ষিকা লাজুমা বেগম বলেন, ছাদ বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হয় আমাদের সহকর্মী কৃষি সহকারী শিক্ষক সুকুমার হয়। আক্লান্ত পরিশ্রম করে বিদ্যালয়ের পুরো ছাদে গাছ পালায় ভরিয়ে দিয়েছে। আমরা এখান থেকে বিভিন্ন ফল বাসায় নিয়ে যেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খাই এমনকি শাক সব্জি নিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করি।
বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমনা আক্তার বলেন, বাগানে গাছ পালায় প্রাকৃতিক সুন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা এখানে উদ্ভিদ বিদ্যা, জীববিদ্যা, কৃষি শিক্ষা বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহন করে থাকি। এখানে দেখার পাশাপাশি সুকুমার স্যারের পরমর্শে বাড়িতে বাগান করেছি।

ডোমার উপজেলা কৃষি অফিসার আনিছুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পতিত জমিতে কৃষির পাশাপাশি ছাদেও কৃষি বাগান করা হচ্ছে। তবে বিদ্যালয়ের ছাদ বাগান শিক্ষার্থীদের কৃষি বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদের এই কৃষি প্রধান দেশে বিদ্যালয়ের ছাদে হাতে কলমে শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
