পানিদূষণ রোধে বায়োপ্রযুক্তি

মাহমুদুল হাসান।।

পানি শোধন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যবহার শেষে পানিকে আরো গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য এর গুণগত মান আরো উন্নত করা। পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে পানি পান, শিল্পে পানি সরবরাহ, সেচ, নদী প্রবাহ রক্ষণাবেক্ষণ এবং কৃষিক্ষেত্রে। দূষিত পানি শোধন বলতে পানি থেকে অবাঞ্ছিত উপাদানগুলি সরিয়ে দেওয়া বা তাদের ঘনত্ব হ্রাস করা যেন পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

মানুষের দৈনন্দিন কার্যকলাপে জলাশয় দূষিত হলে পানিদূষণ হয়। জলাশয় বলতে হ্রদ, নদী, সমুদ্র ভূগর্ভস্থ পানি এবং ভৌমজলকেই বোঝায়। বিপুল পরিমাণ দূষিত পানি জলজ বাস্তুতন্ত্রের পরিবেশগত অবনতি ঘটাতে পারে। এতে ভাটি এলাকার জনস্বাস্থ্যে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পানিবাহিত রোগে সারা বিশ্বে যত মানুষ আক্রান্ত হয় বা মারা যায়, তাদের সিংহভাগই ঘটে পানিদূষণের কারণে।

বিশ্বব্যাপী পানিদূষণ একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। এজন্য আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় পর্যায়ে পানিসম্পদ নীতির মূল্যায়ন এবং পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে উন্নত দেশগুলোতে। ভারত এবং চীন এই দুই দেশে পানিদূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি।

পানি শোধনে দূষণকারী উপাদান সরানো যাতে বিশুদ্ধ পানি উত্পাদন করা যায় যা কোনো প্রতিকূল স্বাস্থ্যের প্রভাবে স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ছাড়া মানুষের ব্যবহারযোগ্য হয়। পানীয় জল শোধনে যেসব পদার্থ সরিয়ে ফেলা হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বাতিল হয়ে যাওয়া কঠিন বস্তু, ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল, ভাইরাস, ছত্রাক এবং খনিজ পদার্থ যেমন আয়রন এবং ম্যাঙ্গানিজ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা হলো এমন একটি সাধারণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেটির মাধ্যমে স্থানীয় মানের বাস্তবায়ন হবে। উন্নত দেশগুলোতে পানি শোধনের কঠোর মানগুলো প্রয়োজ্য। এগুলো পানীয় জলের মানের প্রয়োজনীয়তার জন্য সারা বিশ্ব জুড়ে অনুসরণ করা হয়। বিশ্বব্যাপী পৌর পানীয় জল শোধনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। যেমন শেওলা নিয়ন্ত্রণ এবং জৈবিক বৃদ্ধি কমানোর জন্য ক্লোরিন প্রয়োগ, দ্রবীভূত লৌহ অপসারণের জন্য ক্লোরিনের সঙ্গে বাতান্বয়ন প্রয়োগ, যখন অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ উপস্থিত থাকে, ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস এবং অন্যান্য জীবাণু অপসারণ করার জন্য নির্বীজন।

পানীয় জল এবং অন্যান্য ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি হলেও আমাদের দেশে তা পরিলক্ষিত হয়নি। উন্নত বিশ্বে পানি এবং বর্জ্য পানি শোধনে স্বয়ংক্রিয়করণ ব্যবস্থা একটি সাধারণ বিষয়। বর্জ্য জল শোধন হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যা বর্জ্য বা নর্দমার ময়লা জল থেকে দূষণকারী উপাদানগুলির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অপসারণ করে এবং পানিকে বিশুদ্ধ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।

জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমেও দূষিত পানি শোধন করা হয়ে থাকে। পানিদূষণ রোধে পরিবেশগত বায়োটেকনোলজির ব্যবহার করা হয়ে থাকে উন্নত বিশ্বে। বহু বিভাগীয় ইন্টিগ্রেশন বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ব্যবহারের জন্য অণুজীবের বিশাল জৈব রাসায়নিক সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবেশগত বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করা হয় উন্নত প্রযুক্তি বিকাশ দক্ষতা বাড়াতে এবং বর্জ্য হ্রাস বা ব্যবহার করতে শিল্প এবং পরিবেশ গবেষণায় জড়িত। বায়োরিমিডিয়েশনের মতো নিয়ন্ত্রণ এবং বায়োপ্রসেসগুলি শিল্প বর্জ্যজল শোধন ব্যবহার হয়ে থাকে। আমাদের দেশের পানি শোধনের জন্য সরকারিভাবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও বায়োটেকনোলজি বা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি শোধনের ব্যবস্থা কিছু বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দেখা যায়।

আমাদের দেশে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারও দিনকে দিন বেড়েই চলেছে—তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পানি। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ হয় এমন ভূমির পরিমাণও কমছে। পরিবেশ তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হারাচ্ছে। পানিদূষণ বাড়ছেই। এ অবস্থায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানিদূষণ রোধ করা এখন একান্ত জরুরি, এক্ষত্রে বায়োটেকনোলজি হতে পারে উপযুক্ত সমাধান।

শিক্ষার্থী, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.