শিক্ষা উপমন্ত্রীর কথিত সেই এপিএস ফের পুলিশের জালে

নিউজ ডেস্ক।।

শিক্ষা উপমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রতারণায় জেলে গিয়ে জামিনে বের হয়ে সেই শিহাব উদ্দিন আবারও গ্রেপ্তার হলেন আরেক প্রতারণায় মামলায়। বিদেশে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জমাকৃত পাসপোর্ট কপির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগ এনে সাইফুল ইসলাম নয়ন নামে এক ব্যক্তির দায়েরকৃত মামলায় শিহাবকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার বিষয়টি জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দিন। এর আগে গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় রিয়াজউদ্দিন বাজারের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত শিহাব উদ্দিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার রোসাংগিরি ইউনিয়নের আনোয়ার আজিম মাস্টার বাড়ির মো. তাহের উদ্দিন সিদ্দিকীর ছেলে। তিনি অক্সিজেন এলাকার পাঠানপাড়া মসজিদ রোডের হাজী মোহাম্মদ ইসমাইল ভবনে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ জানায়, শিক্ষা উপমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে তাসলিমা সাখাওয়াত নামে এক নারী থেকে দুই লাখ টাকা নেন শিহাব। কথা ছিল— এই টাকার বিনিময়ে তিনি কারাবন্দি তাসলিমার স্বামীকে জামিনে মুক্ত করবেন। কিন্তু এই টাকা আত্মসাৎ করেন শিহাব। এ অবস্থায় শিহাবের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করে তাসলিমা।

এদিকে নয়ন নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গেও প্রতারণাকরেন শিহার। কাতারে চাকরি দেওয়ার নামে ২০১৮ সালে তিনি নয়নের পাসপোর্টের ফটোকপি নেন। এরপর সেই পাসপোর্টের ফটোকপি দিয়ে চলে প্রতারণা।

নয়নের কাছে কখনো ফোন আসতে থাকে স্টেশন রোডের মোটেল সৈকত থেকে, আবার কখনো পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লু থেকে। সবাই নয়নের কাছ থেকে হোটেলে থাকা-খাওয়ার বিলের বকেয়া টাকা দাবি করেন।

পরে নয়ন জানতে পারেন তাঁর পাসপোর্টের ফটোকপি দিয়েই গত ২৮ জুলাই রেডিসনে রুম বুকিং নেন শিহাব। একদিন সেখানে অবস্থান করেন ‘নয়ন’ নামে। এ কারণে নয়নের নামে আসে ২৫ হাজার টাকার বিল!

এর আগে মোটেল সৈকতেও অভিন্ন প্রতারণা করেন শিহাব। হোটেলে থেকে আরাম-আয়েশ শিহাব করলেও ১১ হাজার টাকার বিল আসে নয়নের নামে।

কোতোয়ালী থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, শিহাব ভয়ঙ্কর প্রতারক। সে একেক সময় একেক জনের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করে। এর আগেও তাকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে সে আবারও প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, শিহাব উদ্দিন এর আগে শিক্ষা উপমন্ত্রী নাম ব্যবহার করে তাসলিমা সাখাওয়াত নামে এক নারীর স্বামীকে জামিনে মুক্ত করানোর জন্য দুই লাখ টাকা নিয়ে উক্ত টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতারণাপূর্বক অর্থ আত্মসাৎ করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। উক্ত মামলায়ও গ্রেপ্তার হয়েছিলো তিনি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.