নিউজ ডেস্ক।।
নিজেদের ব্যাটিং ইনিংসে প্রায় একই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের রান ৭২। ২৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিম্বাবুয়ের সমান উইকেটে রান ৭৮। খাদের কিনারা থাকা বাংলাদেশকে উদ্ধারে ছিলেন একজন লিটন। যার ব্যাট থেকে আসা অনবদ্য সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ শিবির পায় স্বস্তি।
জিম্বাবুয়ের ত্রাতা হতে পারেননি কেউ। সাকিবের মায়াবী ঘূর্ণিতে স্রেফ এলোমেলো তারা। সেখান থেকে ৪৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২১ শেষ জিম্বাবুয়ের লড়াই। তাতে ১৫৫ রানের বিশাল জয় পায় বাংলাদেশের। দেশের বাইরে যা বাংলাদেশের রানের বিচারে সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে শ্রীলঙ্কাকে এশিয়া কাপে ১৩৭ রানে হারানোর রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। এ জয়ের নায়ক লিটন দাস।
এক ম্যাচ পর একাদশে ফিরে ডানহাতি ব্যাটসম্যান খেলেন ১০২ রানের ঝকঝকে ইনিংস। বড্ড তাড়াহুড়ো দেখিয়ে তামিম-সাকিবরা যখন উইকেট উপহার দিয়ে আসেন, মিথুন-মোসাদ্দেকরা যখন থিতু হয়েও দৃষ্টিকটু শটে আউট হন তখন লিটন দেয়াল হয়ে দাঁড়ান হারারের ২২ গজে। পঞ্চম উইকেটে তাকে সঙ্গ দেন মাহমুদউল্লাহ। টেস্ট ম্যাচের মতো তাদের জুটি এবারও লম্বা হয়। ৯৩ রানের জুটিতে মাহমুদউল্লাহ ৩৩ রান যোগ করে ফিরে গেলেও লিটন মাইলফলক ঠিকই ছুঁয়েছেন।
লিটনের ইনিংসটি ছিল পারফেক্ট পিকচার । রানের খাতা খুলতে লেগে যায় ১০ বল। ৩৫তম বলে আসে প্রথম বাউন্ডারি। হাফ সেঞ্চুরি ৭৮ বলে। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রান তোলায় তাড়াহুড়া না দেখিয়ে টিকে রইলেন। হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে ৭৮ বল খেললেও পরের ৫০ রান পেতে মাত্র ৩২ বল নেন লিটন। খুব বেশি বাউন্ডারিতে জোর দেননি। সিঙ্গেল ও ডাবলসে ছিল তার মনোযোগ।
১০২ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি ছিল ৮টি। শেষদিকে আফিফ হোসেনের ৩৪ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রানের ইনিংসটি ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন মিরাজ। মিরাজ ব্যাট থেকে ২৫ বলে আসে ২৬ রান। তাতে বাংলাদেশের রান ৯ উইকেটে ২৭৬। লড়াকু এ পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশ জিতে যায় অনায়েসে। তবে জয়ের ভিত গড়েছিলেন তিন পেসার। সাইফ উদ্দিন ও তাসকিন ৫ ওভারের ভেতরেই মারুমানি ও মাধভেরেকে ফেরান।
শরিফুল নিজের দ্বিতীয় ওভারে তুলে নেন ডিয়ন মায়ার্সের উইকেট। পরের গল্প পুরোটাই সাকিবের। নতুন বলে প্রথম স্পেলে এসে মার খেয়েছেন টেইলের ব্যাটে। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক বাউন্ডারিতে উইকেটে স্বাগত জানানোর পর স্লগ সুইপে আরো দুই বাউন্ডারি হাঁকান দ্বিতীয় ওভারে। ২ ওভারে ১৭ রান দেওয়ায় সাকিবকে সরিয়ে নেন তামিম। বাঁহাতি স্পিনার ফিরে আসেন ১৫ ওভারে। ফিরেই দ্বিতীয় বলে উইকেট। সেটাও স্বাগতিক অধিনায়ক টেইলরের। এই উইকেট নিয়ে সাকিব দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন। পেছনে ফেলেন মাশরাফির ২৬৯ উইকেট।
উইকেটের গেরো ছুটানোর পর সাকিবের পকেটে টপাটপ উইকেট। জিম্বাবুয়ে ৭৮ থেকে ১২১ রানে যেতেই হারায় ৬ উইকেট। সাকিব একাই নেন ৫টি। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফার। তাতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় অতি সহজে। রেকর্ড জয়ের রাতে সাকিব ও লিটনের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স বলে দেয়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লড়াইটা এখন একপেশে।
এর আগে ১৬ ওয়ানডেতে টানা জয় পেয়েছে বাংলাদেশে। হারারেতে তালিকাটা আরও লম্বা হলো। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ সুপার লিগের ১০ পয়েন্টও নিশ্চিত করলো তামিমের দল। একদিন পর একই মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
