নিউজ ডেস্ক।।
হজ মুসলমানের জন্য একটি ফরজ ইবাদত। এতে শারীরিক শক্তি ও অর্থব্যয় দু’টিরই প্রয়োজন। ইসলামে হজের গুরুত্ব অনেক। মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ সম্মেলন হলো হজ। উম্মাহর সামাজিক, রাজনৈতিক, আধ্যাত্মিক ঐক্য এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধ সৃষ্টির প্রকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে হজ। ইসলামে হজ অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। হাদিস শরিফে হজের ব্যাপারে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন- ‘মাবরুর (কবুল ) হজের প্রতিদান জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয়।’ (বোখারি) ‘যে হজ করল ও শরিয়ত অনুমতি দেয় না- এমন কাজ থেকে বিরত রইল, যৌন স্পর্শ রয়েছে- এমন কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকল, সে তার মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনের মতো পবিত্র হয়ে ফিরে এলো।’ (বোখারি)
‘আরাফার দিন আল্লাহ এতসংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা অন্য কোনো দিন দেন না। এ দিন আল্লাহ তায়ালা নিকটবর্তী হন ও আরাফার ময়দানে অবস্থানরত হাজীদেরকে নিয়ে তিনি ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করে বলেন ‘ওরা কী চায়?’ (মুসলিম)
সর্বোত্তম আমল কী এ ব্যাপারে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা:-কে জিজ্ঞাসা করলেন। উত্তরে তিনি বললেন, ‘অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি ঈমান, তারপর মাবরুর হজ যা সব আমল থেকে শ্রেষ্ঠ। সূর্য উদয় ও অস্তের মধ্যে যে পার্থক্য ঠিক তারই মতো।’ (আহমদ)
অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘উত্তম আমল কী এই মর্মে রাসূলুল্লাহ সা:-কে জিজ্ঞাসা করা হলো। উত্তরে তিনি বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান। বলা হলো, ‘তারপর কী?’ তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ। বলা হলো তারপর কোনটি? তিনি বললেন, মাবরুর হজ।’ (বোখারি) ‘হজ ও ওমরাহ পালনকারীগণ আল্লাহর মেহমান। তারা যদি আল্লাহকে ডাকে আল্লাহ তাদের ডাকে সাড়া দেন। তারা যদি গুনাহ মাফ চায় আল্লাহ তাদের গুনাহ মাফ করে দেন।’ (ইবনে মাজাহ) আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘এক ওমরাহ হতে অন্য ওমরাহ, এ দুয়ের মাঝে যা কিছু (পাপ) ঘটবে তার জন্য কাফফারা। আর মাবরুর হজের বিনিময় জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয়।’ (বোখারি) রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘কারো ইসলাম গ্রহণ পূর্বকৃত সব পাপকে মুছে দেয়। হিজরত তার আগের সব গুনাহ মুছে দেয় এবং হজ তার আগের সব পাপ মুছে দেয়।’ (মুসলিম)।
হজ পালন করে মুসলমানরা এক দিকে আল্লাহর নির্দেশ পালন করেন, অন্য দিকে আল্লাহর পথে আরো দৃঢ় ও ঘনিষ্ঠভাবে চলার জন্য মনস্থির করেন এবং বাস্তব শিক্ষা অর্জন করেন।
আল্লাহ তায়ালা বান্দার ওপর নামাজ, রোজা, জাকাত, হজের মতো কিছু বিধান পালন বাধ্যতামূলক করে দিলেও এসবের মধ্যে বান্দাহর জন্য বহুবিদ উপকারিতা রেখেছেন। ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বাধ্যতামূলক কাজ মুসলমানদেরকে তার আসল কাজ তথা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে তাঁরই সব আদেশ-নিষেধ পালন করার উপযোগী করে তোলে। বিশেষ করে মানুষ যাতে জীবনের কোনো অবস্থায় আল্লাহকে ভুলে না বসে, তার পথ থেকে দূরে সরে না যায় তার জন্যই এসব কাজকে বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে। বাস্তবেও নামাজ-রোজা-হজের প্রতিটি পালনীয় কাজের মধ্য দিয়ে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, শারীরিক সক্ষমতা অর্জন এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন দিকের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
