সড়কে ক্রমেই বাড়ছে গাড়ির চাপ, গলিতে মানুষের ভিড়

নিউজ ডেস্ক।।

সরকারঘোষিত ১৪ দিনব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধের গতকাল মঙ্গলবার (৬ জুলাই) ছিল ৬ষ্ঠ দিন। তবে দিন যতই গড়াচ্ছে, ততই সড়কে বাড়ছে গাড়ির চাপ আর গলিতে বেড়েছে মানুষের ভিড়। বিধিনিষেধ অমান্য করে খুলছে জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও। তবে করোনার সংক্রমণ রোধকল্পে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছেন পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা।

বিধিনিষেধ কোথাও ঢিলেঢালা, কোথাও ছিল কঠোর। ষষ্ঠ দিনে রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে। গত পাঁচ দিনের তুলনায় গতকাল সড়কে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। অবিশ্বাস্যভাবে কোনো কোনো ট্রাফিক সিগন্যালে যানজটও দেখা গেছে। তবে চেকপোস্টে কড়াকড়ি ছিল। অপর দিকে বিধিনিষেধ ভেঙে অকারণে বাইরে বের হওয়ায় ৩৪৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে প্রথম দিন ৫৫০ এবং দ্বিতীয় দিন ৩২০, তৃতীয় দিন ৬২১ এবং চতুর্থ দিনে ৬১৮ ও পঞ্চম দিনে ৫০৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখো গেছে, বিধিনিষেধকে তোয়াক্কা না করে অবাধে চলাফেরা করছে মানুষ। মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেলে যে যার মতো সরে পড়ছেন। মাস্ক না পরে রিকশা, মোটরসাইকেল চালাতে দেখা গেছে অনেককে।

নিম্ন আয়ের মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা লকডাউনের মধ্যে আর্থিক সংকটে পড়ে তাদের এখন আর কোনো উপায় নেই। মালিবাগ, রামপুরা, শান্তিনগর, পল্টন, কাকরাইল ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে গত কয়েক দিনের তুলনায় লোকজনের চলাচল বেড়েছে। প্রধান সড়কে চলছে প্রচুর রিকশা, পাশাপাশি প্রাইভেট কারের সংখ্যাও বেশ। রিকশা আর ভ্যানে করে মানুষ নিজের গন্তব্যে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। লকডাউনের শর্ত অনুযায়ী এসব কর্মীদের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব যানবাহনের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও কেউ তা করেনি। ফলে রিকশা বা হেঁটেই তারা গন্তব্যে যাচ্ছেন। এছাড়া রাজধানীতে গতকাল বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মানুষ আরো বেশি বের হয়েছে।

কোথাও ঢিলেঢালা, কোথাও কঠোর: কোথাও ঢিলেঢালা আবার কোথাও কড়াকড়ি বিধিনিষেধ পালন হতে দেখা গেছে। মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হলেও সেগুলোতে দায়িত্বরতদের তত্পরতা তেমন নেই। দুই-তিনটি স্থানে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও বাকি চেকপোস্টে বাধাহীন যান চলাচল করতে দেখা গেছে। বিজয় সরণিতে বসানো হয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। সেখানে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে, ছয় জন পুলিশ সদস্য এখানে দায়িত্ব পালন করলেও মাঝেমধ্যে দুই-একটি ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হচ্ছে। কী কারণে মানুষ বের হচ্ছে তা তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কাগজপত্র ঠিক থাকলে যেতে দেওয়া হচ্ছে। তেজগাঁও রোডের বিজি প্রেসের সামনে মূল সড়কের দুই পাশে বসানো চেক পোস্টে কড়াকড়ি অবস্থা দেখা গেছে। প্রায় প্রতিটি গাড়িকে আটকে বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে। অনেক গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করতেও দেখা গেছে।

রাস্তায় নাটকের শুটিং: কঠোর বিধিনিষেধে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে রাস্তায় শুটিং করায় পরিচালক নাসিরউদ্দিন মাসুদের একটি টিভি নাটকের শুটিং ইউনিটের ডজনখানেক সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়ার পর মুচলেকায় ছেড়ে দেয় খিলগাঁও থানা পুলিশ। থানার ওসি ফারুকুল আলম জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খিলগাঁওয়ের সি ব্লকে শুটিংয়ের সময় ভিড় হওয়ায় পরিচালকসহ ইউনিটের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। শুটিংয়ের আশপাশে অনেক লোক জড়ো হয়েছিল।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.