কওমি মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি

নিউজ ডেস্ক।।

মানবিক বিবেচনায় দেশের সকল কওমি মাদ্রাসা সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবিলম্বে খুলে দেয়াসহ সকল প্রাইমারি স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের চাকরি-বিধি ও বেতন কাঠামো নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী লিখিত বক্তব্যে বলেন, কওমি মাদ্রাসা আর সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে চরিত্রগত মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রদানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। ফলে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরিতে অবদান রাখে। করোনার এই দুঃসময়ে মানুষের খাদ্য সংকট চরমে; এমনি মুহূর্তে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর খাদ্য ও আবাসন ব্যবস্থা বন্ধ করে রাখা অমানবিক।

তিনি বলেন, সরকার এতিমখানা চালু রাখার নির্দেশনা জারি করেছে। এটা ইতিবাচক। এই নির্দেশনার আওতায় সকল কওমি মাদ্রাসাও অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।

প্রতিটি কওমি মাদ্রাসায় এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং-এর ব্যবস্থা আছে। তা সত্ত্বেও কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে হাজার হাজার এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের খাদ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। এটা সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসা এখনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আদর্শ মান ধরে রেখেছে। একমাত্র এসব মাদ্রাসাতেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানিকভাবে দেয়া হয়। এখানে কোনো প্রাইভেট পড়ানো, কোচিং ও নোট বাণিজ্য হয় না। শিক্ষকগণ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠানে মনোনিবেশ করেন এবং তাদের আয়-উপার্জনও সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠান প্রদেয় বেতন-ভাতার উপর নির্ভর করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে তাদের আয়-উপার্জন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে আছে। উপার্জনের জন্য বারোয়ারি ধান্ধা না করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় একনিষ্ঠতার এই শুদ্ধবাদিতাই যেন কওমি শিক্ষকদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে সকল মাদ্রাসা খুলে দিন।

মডেল মসজিদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রজেক্টকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এই মডেল মসজিদে সামাজিক সুফল নিশ্চিত করতে জনবল নিয়োগে ওলামায়ে কেরামের সমন্বয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন করতে হবে। যাতে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন এবং কোনোরকম দুর্নীতি ছাড়াই যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা যায়। মডেল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য যে বেতন কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে; তা রীতিমতো অসম্মানজনক ও বৈষম্যমূলক। ইমাম পদের যোগ্যতা হিসেবে হাফেজ, দাওরা/কামিল, মুফতি, মুহাদ্দিস চাওয়া হয়েছে। মাস্টার্স ও উচ্চতর ডিগ্রির বিপরীতে যে বেতন-কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে, তা কিছুতেই সুবিবেচনাপ্রসূত নয়। ইমাম-খতিবদের জন্য প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের মর্যাদা ও বেতন-ভাতা, মুয়াজ্জিনদের জন্য ২য় শ্রেণি এবং খাদেমদের জন্য ৩য় শ্রেণির মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।

কোরবানির চামড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার সময় দেশে প্রচুর গরু, ছাগল কোরবানি হয়। এ ছাড়া সারা বছরই এসব পশুর গোশত ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। ফলে দেশে চামড়ার উৎপাদন ও সরবরাহ ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানি পণ্য। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারের ভুলনীতি ও সিদ্ধান্তহীনতায় রপ্তানি আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থান হারিয়ে চামড়া খাত তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে। এটি সরাসরি প্রভাব পড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপরে এবং কওমি মাদ্রাসার ওপরে। কোরবানির চামড়া গরিবের হক। দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর আয়ের বড় একটি খাত এই কোরবানির চামড়া। অনতিবিলম্বে চামড়া খাতের অব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্তহীনতা দূর করে চামড়া শিল্পকে শক্তিশালী করার দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, শায়খুল হাদিস মাওলানা হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা ইউনুস ঢালী, মাওলানা কামাল উদ্দিন সিরাজ, মুফতি আশরাফ আলী নূরী, মুফতি ওয়ালী উল্লাহ, মাওলানা মোরতুজা কাসেমী, মুফতি আক্তারুজ্জামান, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, মাওলানা রফিকুন্নবী হক্কানী, মাওলানা শাহজাহান হাবিবি, মাওলানা বাসির মাহমুদ প্রমুখ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.