নিউজ ডেস্ক।।
করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ একবছর ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকার পর পুনরায় ক্লাসে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এতে আনন্দিত কোমলমতি শিশু ও তাদের অভিভাবকরা। শিক্ষকরাও ক্লাসে ফিরতে ব্যাকুল। এর মধ্যে শিক্ষকরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়াতে শুরু করেছেন।
গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের সাব-ক্লাস্টারভিত্তিক সেন্টার রয়েছে ১৪৬টি। বিদ্যালয়ভিত্তিক সেন্টার ২৬৬টি।
অপরদিকে, গাজীপুর জেলার মোট ৭৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্টওয়ারি একাধিক কেন্দ্রে গুচ্ছ পাঠদান কর্মসূচি গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ক্ষতি পোষাতে চলছে অনলাইনে ক্লাস। কিন্তু কোনো কোনো এলাকায় অনলাইনে ক্লাস করার সুবিধা অথবা সব শিক্ষার্থীর সামর্থ্য না থাকায় অনলাইন ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। তার মধ্যে সব এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধাও নেই। এইসব প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গে নিয়েই শিক্ষকরা দৃঢ় প্রকল্প নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দান করেন।
কালিয়াকৈর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ২৫-২৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আমতলী গ্রামের পণ্ডিতের বাড়ির উঠানে লেখাপড়া করাচ্ছেন মজিদচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে বসে থেকে আমার ভালো লাগে না। আর শিক্ষার্থীরাও বই থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত মঙ্গলবার বাড়ির উঠানেই লেখাপড়া করানোর চেষ্টা করছি।’
বাগচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে বারান্দায় বসে ক্লাস করাচ্ছেন শিক্ষক অর্চনা রানী। বহেড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাক আয়নাল হককে পাওয়া যায় স্থানীয় মো. ফজলুলের বাড়িতে।
৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তামান্না বলছে, ‘খুব আনন্দ লাগছে। অনেক বছর পরে সবাই একসঙ্গে পড়তাছি। স্যারদের কাছে পেয়েছি যদি স্কুলে যেয়ে পড়তাম আরও ভালো লাগতো।’
বাসায় থাকতে থাকতে শিশুরা হাপিয়ে ওঠেছে। দীর্ঘদিন ক্লাস বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে দল ভিত্তিক লেখাপড়া করাতে পারায় স্বস্তি ও আনন্দ বোধ করছেন বলে জানান অভিভাবকরা।
কালিয়াকৈর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলাম জানান, সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পড়াচ্ছেন। এতে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
