নিউজ ডেস্ক।।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যবিদায়ী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ছাত্রলীগের ‘নাম ভাঙ্গিয়ে’ যে নিয়োগ দিয়ে গেলেন সেটাতে অধ্যাদেশ অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গত ৬ মে বিদায় বেলায় এই নিয়োগ কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি। ১৩৭ জনের সেই নিয়োগ এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি।
অবশ্য শুরু থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই নিয়োগকে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত বললেও সদ্য সাবেক ভিসি অধ্যাপক আবদুস সোবহান বলে আসছেন যে, তা কোনোমতেই অবৈধ নয়।
তার দাবি, ১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ তাকে ভিসি হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। তিনি সেটিই ব্যবহার করেছেন। এমনকি গতকাল শনিবার নিয়োগপ্রাপ্তদের মিছিল সহযোগে তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেও তিনি একই কথা বলেছেন।
শনিবার সাবেক এই ভিসি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের ১২(৫) ধারার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, সেই ধারায় আমি নিয়োগ দিয়েছি। ফলে এখানে আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আগে এই আইনটি বাতিল করা উচিৎ।
অধ্যাদেশের সেই ধারায় বলা হয়েছে- উপাচার্য পুরোপুরি অস্থায়ী ভিত্তিতে, অনধিক ছয় মাসের জন্য কর্মকর্তা (প্রোভিসি ও কোষাধ্যক্ষ ব্যতীত), শিক্ষক এবং প্রশাসনিক ও অধঃস্তন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া এবং সিন্ডিকেটে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার ক্ষমতা রাখেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সহায়তার সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উনি (ভিসি) যে ধারাটির কথা বলছেন, সেটা যেভাবে বলছেন এবং যে কারণে বলছেন, সেখানে মনে হচ্ছে, তিনি খণ্ডিতভাবে ধারাটি উল্লেখ করছেন। অধ্যাদেশ তাকে অস্থায়ী নিয়োগ দেয়ার যে ক্ষমতা দিয়েছে, সেখানে কিন্তু সিন্ডিকেটকে অবগত করার কথাও বলা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ৭৩ এর অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের রক্ষাকবচ। সে কারণে সেখানে ভাইস চ্যান্সেলর অনেক ক্ষমতার অধিকারী হন। কিন্তু সেই ক্ষমতার চর্চার উদ্দেশ্যটা অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে হওয়া উচিত। আর সে কারণেই ১২(২) ধারায় বিশ্বস্ততার কথা বলা আছে। ওটা লঙ্ঘন করারও তো সুযোগ নেই।
১৯৭৩ এর অধ্যাদেশের ১২(২) ধারায় বলা হয়েছে- এই আইন, সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ যাতে বিশ্বস্তভাবে পালন করা হয় তা নিশ্চিত করা উপাচার্যের দায়িত্ব হবে এবং এই উদ্দেশ্যে তার প্রয়োজনীয় সমস্ত ক্ষমতা থাকবে।
অধ্যাপক আবদুস সোবহানের দাবি অনুযায়ী, নিয়োগে নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের সংঘাত হয় কি না জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা এভাবে বলা মুশকিল। মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে এমন অনেক আলোচনাই আছে। তবে সেগুলো আইনের আলোকে ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ভিসিকে চিঠি দিয়ে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছিল। সে কারণে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক এক সদস্য বলেন, এসব কথা তিনি (ভিসি) এখন আলোচনা অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য বলতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি যদি এতোই আইন মানবেন, তাহলে তো তার কাছে উল্টো প্রশ্ন করতে হয় যে, ২০০৯ সালে যে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডহক নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিলো, সেটা তিনি অমান্য করলেন কেন? প্রজ্ঞাপণ কি অমান্য করার জন্য?
অধ্যাপক সোবহান ‘সৎ ভাবে’ বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচালনা করেননি বলে দাবি করে সাবেক ওই শিক্ষক বলেন, তিনি (ভিসি) এখন আইনের দোহাই দিচ্ছেন, ভালো কথা। কিন্তু তিনি কেন রেজিস্ট্রার থাকার পরেও তাকে নাই দেখিয়ে তার অনুগত একজনকে দিয়ে স্বাক্ষর করালেন? তিনি ১২(৫) পড়েছেন, কিন্ত ১২(১০) কি পড়েননি? এখানে তো রেজিস্ট্রার রাজি না, আর ভিসি সেটা করতে চান। আর অধ্যাদেশের ওই ধারায় তো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভিসি দ্বিমত করলে কী করণীয়, তা স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
