এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২১ অভিযোগ

দুই বছরে ২১ শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। একের পর ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন ওই শিক্ষক।

আলোচিত এই শিক্ষকের নাম আক্তারুজ্জামান তুহিন (২২)। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মধ্য রহমতপুর তালিমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই বছরে ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে অন্তত ২১জন শিক্ষার্থী। নির্যাতনের শিকার ৫ ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা কমিটির নিকট লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তালিমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক আক্তারুজ্জামান তুহিন বিগত ২ বছর যাবত মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণির শিশু ছাত্রীদেরকে তার বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতেন। সেই সুযোগে তিনি বিভিন্ন সময়ে অন্তত ২১ জনকে যৌন নির্যাতন করেছেন। অভিযোগকারী অভিভাবকদের কাছে নির্যাতনের শিকার ২১ শিশু ছাত্রীর বয়ান সংরক্ষণ রয়েছে।

তারা জানান, শিক্ষক আক্তারুজ্জামান তুহিন দীর্ঘদিন যাবত এসব অপকর্ম করছেন। তাকে কেউ কিছু বললে উল্টো তিনি হুমকি প্রদান করেন। লোকলজ্জা ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে অনেক পরিবার প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। তবে তারা ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

মাদ্রাসা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ও মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক হাসানুর রহমান জানান, আরবি শিক্ষক আক্তারুজ্জামান তুহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার। এরপর মাদ্রাসা কমিটির সদস্যরা বিচার বসিয়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করেন।

মাদ্রাসার সুপার হাফেজ মাওলানা ইউনুস আলী গণমাধ্যমকে জানান, প্রথমে ঘটনাটি শোনার পর বিশ্বাস হয়নি। পরবর্তীতে অভিযুক্ত শিক্ষকের নিকট জানতে চাইলে তিনি সব কিছু স্বীকার করেন। এরপর কমিটি তাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করেন।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে খতিয়ে দেখবো। ঘটনার সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.