বউ মেলা চলছে নাটোরে

অনলাইন ডেস্ক ||

বিশালাকৃতির খোলা মাঠজুড়ে নারীদের উপচে পড়া ভিড়। একটি মেলাকে কেন্দ্র করে নারীদের এমন জমায়েত। মেলার নাম ‘বউ মেলা’। ৫২ বছরের পুড়নো এই মেলাতে শুধুযে বউ এসেছেন তা নয়। এখানে অংশ নিয়েছেন শ্বাশুড়ী, ননদী, জা-ঝিসহ শিশু-কিশোরীরা।গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মকিমপুরে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বসেছিল এই ‘বউ মেলা’। মেলায় নারীদের পাশাপাশি বাহারি সব কাঁচের চুরি, রঙিন ফিতা, টিপ, লিপষ্টিক, কানের দুল, ঝিনুকের মালার পসরা সাজিয়ে রেখেছেন পুরুষরাও। মেলায় এসে শ্বাশুড়ী, ননদী, জা-ঝিসহ নারীরা এসব অলঙ্কার কিনতে দামাদামি করছেন। দামে মিলে গেলে কিনছেন অলঙ্কারগুলো।

তবে ‘বউ মেলা’য় পুরুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকায় দৃষ্টির সীমানাজুড়ে শুধুই নারীদের চোখে পড়বে।

স্থানীয়রা জানান, ৫২ বছর আগে মৃত মুন্নাফ মন্ডল মেলাটি প্রথম শুরু করেছিলেন। তার পর থেকে প্রতিবছরের পহেলা চৈত্রে দুইদিন ব্যাপি মেলাটির আয়োজন চলে আসছে। যুগ যুগান্তের পুড়নো এই মেলায় ঐতিহ্য রয়েছে। বাংলা বছরের পহেলা চৈত্রে এই মেলা বসে। দুইদিন ব্যাপি এই মেলার প্রথম দিনে উন্মুক্ত মেলায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকে ‘বউ মেলা’ শুরু হয়। মেলাকে কেন্দ্র করে জামাইদের দাওয়াত করে আনা হয় শ্বশুরবাড়িতে। এলাকার পুকুর থেকে আনা বড় বড় মাছও রান্না করা হয় জামাইদের জন্য।

মেলায় আসা পপি, লতা, শ্যামলি, রানি, মাওয়াসহ অন্তত দশজন বউ উচ্ছাসিত কন্ঠে বলেন, এই দিনটির জন্য তারা বছরজুড়ে অপেক্ষা করেন। মেলাটিতে শুধু নারীদের আগমণ থাকায় কেনা-কাটা, ঘোরাফেরাতে থাকে অবাদ বিচরণ।

আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গ্রামিণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে মেলাটির আয়োজন করে আসছেন। দিনভর ‘বউ মেলা’ চলার পর বিকালে ঘোড়দৌড় শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই মেলায়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.