ফারহাত মাইশা।।
বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অনলাইন ভার্চুয়াল শিক্ষামূলক টিউটরিং-টিচিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে Dikkha.com । প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘অটুট রাখুন নাড়ির টান, আপনার সন্তানকে বাংলা শেখান’ ক্যাম্পেইনটি পরিচালনা করে ইতোমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে প্ল্যাটফর্মটি।
রিনা খানম একজন অনলাইনভিত্তিক নারী উদ্যোক্তা এবং প্ল্যাটফর্মটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষা ও গবেষণা’ ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা বিষয়ে গবেষণার কারণে অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তী সময়ে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। কখন চিন্তা করলেন ‘দীক্ষা’ নিয়ে কাজ শুরু করবেন- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দীক্ষার ভাবনা আমার মাথায় আসে প্রায় দুই বছর আগে। আমার মেয়েদের স্কুলিং শুরুর পর থেকে পছন্দমতো টিচার খুঁজে বের করা হলো দায়। ভাবলাম সবকিছুই তো আজকাল অনলাইনে হচ্ছে, তাহলে অনলাইনে টিউশন কেন নয়!
উন্নত দেশগুলোতেও অনলাইন টিউশন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো ওয়ান টু ওয়ান টিউশন সিস্টেম ছিল না। আমি এবং আমার হাজবেন্ড ব্যাপারটি নিয়ে ভাবছিলাম এবং সে হুট করেই বলে ফেলল চলো আমরা নিজেরাই ‘Virtual Classroom’ ‘ বানিয়ে ফেলি। এভাবেই আমার দীর্ঘ টিচিং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ‘দীক্ষা’ নিয়ে কাজ করা শুরু করে দিলাম। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের বিরাট একটি অংশ বসবাস করছে প্রবাসে। যেসব বাঙালি মা-বাবা বিদেশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন বা দেশ থেকে শিশু অবস্থায় তাদের নিয়ে গেছেন, সেসব মা-বাবার অনেকেই সন্তানদের সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির সম্পর্ক ধরে রাখতে বেশ সচেষ্ট। কিন্তু উপযুক্ত মাধ্যম না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই এ প্রয়াস আশানুরূপ হয় না।
এবার Dikkha.com-এর কল্যাণে বাংলা ভাষাকে জানার সুযোগ পেল প্রবাসী তরুণ প্রজন্ম। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এ ক্যাম্পেইন পরিচালনার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বিতীয় প্রজন্মকে বাংলা ভাষা শেখানো এবং সেই সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া শেকড়ের সঙ্গে। এ ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে মূলত দ্বিতীয় প্রজন্মের কিশোর-কিশোরী, যারা বড় হয়ে উঠছে দেশের বাইরে। এ ছাড়া বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা প্রবাসের তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কাজ করে যাচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি।
প্রবাস থেকে মাতৃভাষার স্বাদ নিতে শুরু করল অনেক পরিবার। ওমান থেকে নাহিয়ান, কাতার থেকে ওয়ার্দি, সুইজারল্যান্ড থেকে সাফিন, সাউথ আফ্রিকা থেকে আফশিন, ইতালি থেকে মেহজাবীন, ফ্রান্স থেকে আইমান, কুয়েত থেকে রুসলান। পৃথিবীর বহু দেশ থেকে এমন শত শত বাঙালি পরিবারে ছেলেমেয়েরা শিখতে শুরু করল মাতৃভাষা বাংলা। ক্যাম্পেইনটির ব্যাপারে প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোক্তা ও সিইও রিনা খানম বলেন, ‘অনেক পরিবার নিজ থেকে সন্তানদের বাংলা শেখাতে চেয়েছেন, আবার অনেক পরিবারের কাছে আমরা কাউন্সেলিং করেছি যেন তারা নিজেদের সন্তানদের বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সঙ্গে পরিচিত করানোর দায়িত্ব আমাদের হাতে তুলে দেন। প্রবাসী অভিভাবকদের কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি এবং বিশ্বব্যাপী এ ক্যাম্পেইন পরিচালনার দিকে আমরা অগ্রসর হচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরাই প্রথম দেশে অনলাইন ভার্চুয়াল ক্লাসরুম তৈরি করেছি। শুরুর দিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। দেশে এখন অনেক অনলাইন মিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার হচ্ছে। ফলে ব্যয় হচ্ছে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা। তবে দীক্ষার মতো একটি দেশীয় সফটওয়্যার যদি শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বত্র ব্যবহার করা যায়, তাহলে দেশ যেমন উপকৃত হবে তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হবেন আমাদের দেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।’
দীক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া, শিক্ষকদের জন্য উন্নতমানের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া পরিপূর্ণ একটি ল্যার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করা, যা কিনা যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে সাহায্য করবে।’
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রয়োজন ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা। ‘দীক্ষা’ ভার্চুয়াল ক্লাসরুম হতে পারে একটি অন্যতম মাইলফলক। বাংলার প্রান্তিক জনপদের মেঠোপথে মুঠোফোনের ক্লাস করা থেকে রাজধানীর বহুতল কোনো ভবন কিংবা বিশ্বের যে কোনো দেশের মেগাসিটি, সবার মুখেই যেন শোনা যায়- মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা। এ আশাই ব্যক্ত করেছে দীক্ষা পরিবার।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
