নিউজ ডেস্ক।।
বইমেলা মানেই ‘বই বই হই চই’। বইমেলা মানে হচ্ছে লেখকের নতুন বইয়ের ম ম গন্ধ। এই বইমেলায় একজন পাঠক সরাসরি লেখকের দেখা পাচ্ছেন। লেখকও পাচ্ছেন তার প্রিয় পাঠকদের। আর প্রকাশক চোখ মেলে দেখতে পাচ্ছেন অগণিত পাঠক, লেখক আর দর্শক। বইমেলাকে অনেকে বলেন, প্রাণের মেলা। পাঠক, লেখক আর প্রকাশকের মিলনমেলা। এই প্রাণের মেলার জন্য এই তিন শ্রেণি প্রতীক্ষার প্রহর গোনে। কবে আসবে সেই বইমেলা। এই বইমেলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বইমেলা আর ফেব্রুয়ারি মাস যেন এক সূত্রে গাঁথা। কিন্তু করোনার কারণে এবার কিছুটা হোঁচট খেতে হলো। অর্থাৎ বইমেলা হবে কি হবে না, এ নিয়ে চলছিল টানাপড়েন। তবে সব টানাপড়েন শেষ হলো। অবশেষে বইমেলা হতে চলেছে। এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র ৯ দিন।
আসছে ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী। এই জন্মবার্ষিকীর পরদিন অর্থাৎ ১৮ মার্চ হতে যাচ্ছে বইমেলা। পুরো মার্চ মাস চলবে এই বইমেলা। এমনকি মেলা এপ্রিল পর্যন্ত গড়াবে।
এবারের বইমেলার পরিসর কতটা? এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ জানালেন, গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে ছিল সাড়ে ৭ লাখ বর্গফুট জুড়ে। আর এবারের পরিসর হচ্ছে ৮ লাখ বর্গফুট। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পুবদিকের অংশে আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বইমেলার স্টলের লটারি হয়েছে সোমবার। এরই মধ্য দিয়ে আজ থেকে পুরো এলাকায় দিনরাত চলবে হাতুড়-বাটালির শব্দ। আর বাঁশের সব সৌন্দর্যের কারুকাজ। আজ থেকেই পুরোদমে চলবে স্টল নির্মাণের কাজ। এবারের বইমেলায় ৫৭০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, এর চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
এবারের মেলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মেলায় কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র থাকবে। এই আশ্রয়কেন্দ্র মূলত ব্যবহার হবে পাঠক, দর্শকদের জন্য। বইমেলায় কেন এই আশ্রয়কেন্দ্র? প্রশ্ন উঠতে পারে। এর সদুত্তর খুঁজতে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এবারের বইমেলা এমন এক সময় হতে যাচ্ছে যখন অনেক সময় হঠাৎ আকাশ মেঘে মেঘে ছেয়ে যেতে পারে। কয়েক পশলা কিংবা অঝোরধারায় বৃৃষ্টিও হতে পারে। তখন মেলায় আসা দর্শক ও পাঠকদের একটুখানি মাথা গোঁজার ঠাঁই নেওয়ার জন্য এই আশ্রয়কেন্দ্র। যদি বৃষ্টি না হয় কিংবা একটু ধূলিঝড় না হয় তা হলে এই আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে যাবে লেখকদের আড্ডার স্থান। অর্থাৎ লেখক-পাঠকদের আড্ডার জায়গা হিসেবে ব্যবহার হবে।
জানা গেছে, বইমেলায় স্বাধীনতার স্তম্ভ নিয়ে বেশ কিছু কারুকাজ থাকতে পারে। উপস্থাপনা হবে একেবারে নান্দনিক। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কোলঘেঁষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের দিক থেকে দর্শকদের প্রবেশের গেট থাকতে পারে। যেন কোনোভাবেই প্রবেশের জন্য কোনো বেগ পেতে না হয়। যারা গাড়ি নিয়ে আসবেন তাদের জন্য পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে।
এবারের বইমেলায় সবই আয়োজন থাকবে। কিন্তু থাকবে না প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বইমেলা উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এবারের বইমেলায় বিশেষ এক ব্যক্তিত্বের অনুপস্থিত অনুভব করবেন সবাই। আর তিনি হলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
