জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তীব্র আবাসন সংকটের ফলে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ হাজার। বিপরীতে ২টি হল রয়েছে যেখানে আসন সংখ্যা ৪ শত ২৮ টি। প্রায় ২৫০০ জনের আবাসন সুবিধা দিতে নির্মাণাধীন দুটি হল চালু করার জন্য বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কথা রাখতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বিগত বছরগুলোর বিভিন্ন সময়ে আবাসন সংকট নিরসন চেয়ে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিবারই উপাচার্যের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীরা সরে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সবশেষ (৪৬ তম) বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৯ অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবাসন সুবিধা পান মাত্র ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ছাত্রাবাস, ত্রিশাল বাজারসহ ময়মনসিংহ শহরে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সুবিধা না পাওয়ায় এ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় আর্থিক সমস্যায়, নিরাপত্তাহীনতায়, পর্যাপ্ত পরিবহনের অভাববোধ করে আসছেন।
ছাত্রদের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু হল’, ছাত্রীদের জন্য ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ নির্মাণ কাজের ধীরগতির ফলে আবাসন সংকট তীব্র হয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। আবাসন সংকট নিরসন না করে প্রতি বছর নতুন বিভাগ খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে আবাসন সংকট আরও বাড়ানো হয়েছে মনে করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ছাত্রাবাসে থাকা লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সোহেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আবাসন সংকট নিরসন না করায় শিক্ষার্থীরা বাইরে অনিরাপত্তার সাথে বাড়তি ভাড়া দিয়ে থাকছে। নবীন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এই সমস্যার মুখোমুখী হয়। নতুন হল দুটি চালু করলে সমস্যাগুলো আর থাকতো না। প্রশাসন থেকে বারবার আশ্বাস দিলেও নতুন হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত এখনও সম্ভব হয়নি।
নির্মাণ কাজের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন দুটি হলের কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রশাসন চাইলে আমরা এই দুই হল বুঝিয়ে দিতে পারবো। দু একটি কাজ বাকি আছে যা স্বল্প সময়ের মধ্যে সমাপ্ত হয়ে যাবে। আমরা একটি হিসাব করে দেখেছি শিক্ষার্থীর জন্য হল দুটি চালু করলে ৮০ শতাংশ আবাসন সংকট নিরসন হবে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, সরকারি ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ১ সপ্তাহের মধ্যে নতুন হল দুটি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হলের জন্য জনবল নিয়োগ এই ছুটির মধ্যে করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই শিক্ষার্থীদের হলে উঠার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
