অনলাইন ডেস্ক ||
মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস ধরে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইনের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি ক্লাস করানো হলেও তাতে অংশ নিতে পারছে না দরিদ্র শিক্ষার্থীরা। ফলে এ বছর তাদের অনেকেই নতুন শ্রেণিতে ভর্তি হয়নি।
রাজধানীর মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলে গত বছর পঞ্চম শ্রেণিতে ২৪০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও এ বছর সংখ্যাটা মাত্র ১৪৪ জন। দেশের আরো অনেক স্কুলেই এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের পুনরায় ক্লাসে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তারা আসছে না। অনেকেই পরিবারকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় কাজ শুরু করেছে। ক্লাসে ফিরে আসতে বা অন্য কোথাও ভর্তি হতে তারা ইচ্ছুক নয়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম রনি বলেন, স্কুল খুলতে দেরি হচ্ছে। তাই বিদ্যমান শিক্ষার্থীদের নতুন শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া অনেক অভিভাবক স্কুল খোলার পর তাদের সন্তানদের ভর্তি করানোর চিন্তা করছেন এবং কেউ কেউ এ বছর আর স্কুলে পাঠাবেন না বলে জানিয়েছেন। আবার কিছু শিক্ষার্থী কাজে নেমে পড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অনেক পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছে না। এ কারণে শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমে যেতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যেই পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
এক্ষেত্রে তাদের পুনরায় ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় প্রশাসনের একত্রে পদক্ষেপ নিতে হবে। যেসব শিক্ষার্থী স্কুলে ভর্তি হয়নি তাদের তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা কাজ করতে পারেন। পাশাপাশি সরকার বিশেষ অনুদান বরাদ্দ দিতে পারে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, গত বছরের মার্চ থেকে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার বাইরে আছে। এ নিয়ে আগেও কথা বলেছি। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষকে তহবিল গঠনের অনুরোধ করেছি। উপজেলা পর্যায়ে সরকারকে কমিটি গঠনের জন্য জোর দিলেও তারা কর্ণপাত করেনি। ফলস্বরূপ এখন এমনটা হচ্ছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
