যে কারণে ভিসি পাচ্ছে না অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

দেশে চলমান ১০৭ বেসরকারি বিশ্ববিদ‌্যালয়ের মধ‌্যে সিংহভাগেরই ভাইস চ‌্যান্সেলর (ভিসি) নেই।  এর মধ্যে ১১টির ভিসি-প্রোভিসি ও ট্রেজারার পদ খালি। এর বাইরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি থাকলেও নেই প্রোভিসি ও ট্রেজারার। আবার প্রোভিসি ও ট্রেজারার থাকলেও নেই ভিসি। রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা উপাচার্য, ট্রেজারার নেই ১৫টিতে, উপ-উপাচার্য নেই ৩৩টিতে।  এসব বেসরকারি বিশ্ববিদ‌্যালয়ে ভিসি না থাকার কারণ হিসেবে যোগ‌্যতার অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ‌্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি  সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে কলেজ শিক্ষকদের নিয়োগ দেয় মন্ত্রণালয়। অথচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দিতে হয়। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলায় এক আইন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলায় আরেক আইন। তাই এ ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ভিসি, প্রোভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগে আইনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ এসব পদ পূরণে অনীহা দেখাচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ‌্যাকাডেমিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও  ইউজিসি থেকে এসব পদে লোক নিয়োগের প্রস্তাব পাঠাতে দীর্ঘদিন ধরেই তাগিদ দিলেও তেমন সাড়া মিলছে না। শীর্ষ এ পদগুলোয় নিয়োগ না দিয়ে কোথাও ‘ডেজিগনেটেড’ কোথাও ‘ভারপ্রাপ্ত’ দিয়ে চালাচ্ছে। এতে নামে ‘অলাভজনক’ হলেও বাস্তবে ‘লাভজনক’ এসব প্রতিষ্ঠান নানাভাবে লাভবান হচ্ছে।  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রাজুয়েটরা। নিয়মিত ভিসি না থাকলে সমাবর্তন করা যায় না। মূল সনদ পাওয়া যায় না।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মালিক পক্ষের লোকরা বিভিন্ন পদবি ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন করছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী এই ধরনের পদে এভাবে নিয়োগ বা দায়িত্ব পালনের কোনোটিই বৈধ নয়।

এই প্রসঙ্গ জানতে চাইলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন,

‘এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদে যোগ্য লোকের অভাব রয়েছে। যে কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদও খালি।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। কর্মরত অধ্যাপকদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিতে চাইলে তারা মোটা অঙ্কের বেতন দাবি করেন। কিন্তু বহু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এত টাকা বেতন দিতে পারে না। এই কারণেও উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

সার্বিক বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, ‘এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিলেও  সাড়া মেলেনি। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ শিগগিরই এসব গ্যাপ পূরণ জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.