এইমাত্র পাওয়া

বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

বঙ্গবন্ধুর যে কোন সময় ফাঁসি হতে পারে – এমন বার্তাই মানুষের কাছে নানা সূত্র থেকে ঘুরে ফিরে আসছিল। ফলে প্রতিটি বাঙ্গালির মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা এবং শঙ্কা আর ও বেড়ে যায়। অন্তত দুটি কারনে তাঁর মুক্তি নিশ্চিত হয়।

প্রথমত,পূর্ব পাকিস্তানে মিত্র বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি সেনাদের আত্নসমর্পনের কারনে ভুট্রোর ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং দ্বিতীয়ত ,প্রবল আন্তর্জাতিক চাপ । বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার তিন দিন পর ১৯ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ভুট্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর কাছে তার প্রথম প্রয়াস ছিল সামরিক ট্রাইবুনালে বিচার কার্য সম্পন্ন করে শেখ মুজিবকে ফাঁসি দেয়া।

কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বের কারনে তিনি মিয়ানওয়ালি কারাগারের বন্ধিদের দিয়ে শেখ মুজিবকে হত্যার দ্বিতীয় পরিকল্পনা গ্রহন করেন।এর বাস্তবায়নে সব ব্যবস্থাই তিনি করেছিলেন। কিন্তু এ প্রচেষ্ঠা ও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।দ্বিতীয়ত ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাঁর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়।তাদের উদ্বেগ আর ও বেড়ে যায় । ৩ আগষ্ট পাকিস্তান টেলিভিষনে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ” শেখ মুজিবকে ” রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ও দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের কথা জানান। ইয়াহিয়ার বক্তব্যের পরই তার সদর দপ্তর থেকে ১১ আগষ্ট সামরিক ট্রাইবুনালে শেখ মুজিবের বিচারের ঘোষনা সংক্রান্ত বিবৃতি প্রদান করা হয়।

শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র দ্রোহসহ ১২ টি অভিযোগ আনা হয়। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির ব্যপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ, জনমত তৈরী এবং পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ভারত প্রথম থেকেই বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে তৎকালীনভারতের প্রধান মন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দ্রিয়া গান্দ্রীর ব্যক্তিগত উগ্যোগ ছিল লক্ষনীয়। বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে প্রবল চাপের মধ্যেই ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।প্রায় এক লক্ষ পাকিস্তানি সেনা মিত্র বাহিনীর কাছে আত্নসমর্পন করে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার বঙ্গবন্ধুকে হত্যা পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। আর ভুট্টো তাঁকে আটকে রাখা এবং মুক্তি নিয়ে হিসাব কষতে থাকেন।

ঠিক এমন একটি সময়ে ইন্দিরা গান্ধী পাকিস্তানকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ,শেখ মুজিবকে মুক্তি দেয়া না হলে পাকিস্তানি সেনাদের প্রত্যাবর্তনের ব্যপারে কোন আলোচনা নয়।পাকিস্তানে ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনৈতিক কারন এবং আন্তর্জাতিক চাপেই শেষ পর্যন্ত ভুট্টো বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তি না হওয়ায় স্বাধীনতা অপূর্ণ থেকেই যায়। প্রতিটি বাঙালী আগ্রহ ভরে অপেক্ষায় থাকে স্বাধীনতার মহানায়ক কবে দেশের মাটিতে ফিরে আসেবেন।তাদের এই অপেক্ষার প্রহর গোনার পাশাপাশি বাড়তে থাকে উদ্বেগ উৎকন্ঠা এবং শঙ্খা।

যে পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশে গণহত্যা চালাতে পারে ,তারা যে কোন সময়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারে।শেষ পর্যন্ত সব উদ্বেগের অবসান ঘটে ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর মুক্তির খবর পাওয়ার পর।অবশেষে তিনি ১০ জানুয়ারি স্বদেশে প্রত্যাবর্তণ করেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.