সাফল্যের সঙ্গে বিচ্যুতিও আছে

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

টানা একযুগ ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি হচ্ছে বৃহস্পতিবার। দীর্ঘ সময়ে থাকা সরকারের মূল্যায়ন করেছেন ইতিহাসবিদ ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। বলেছেন, এই সময়ে সরকারের অনেক সাফল্য আছে। একই সঙ্গে বিচ্যুতিও আছে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দল এবং সরকারকে আলাদা রাখার যে ব্যবস্থা সেটা আওয়ামী লীগ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকার ফলে অনেক প্রকল্প ছোট এবং বড় যাই হোক না কেন- বাস্তবায়িত হয়েছে। এই দীর্ঘ ১২ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে।

এমনকি ভারত ও পাকিস্তানকেও ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি অনেক উন্নত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সবকিছু ব্যত্যয়, বিচ্যুতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষ কিছু পায়। কিন্তু একই সঙ্গে কতগুলো সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে যা থেকে মুক্তি পাওয়া আওয়ামী লীগের জন্য অত্যাবশ্যক।

প্রথমত আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের স্বপক্ষে নিজের অবস্থান ঘোষণা করলেও সরকার এবং দল একাকার হয়ে আছে। যা অগণতান্ত্রিক, বঙ্গবন্ধু যা করেননি। দলের কর্তৃত্ব পৃথক থাকবে, সরকারের কর্তৃত্ব পৃথক থাকবে। দল আর সরকার যদি একাকার হয় তাহলে দলও ভালো চলে না, সরকারও ভালো চলে না। এমন কথা বলার স্বপক্ষে প্রচুর তথ্য উপাত্ত আছে। আমরা চাই, আওয়ামী লীগ আরো ভালো করুক। কারণ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে। আওয়ামী লীগের কাছে আমাদের প্রত্যাশা বেশি।

তাই সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি আমাদের কাছে অনেক বড় হয়ে দেখা দেয়। আরেকটি সমস্যা হলো শেখ হাসিনা সেই ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আছেন। বঙ্গবন্ধু এতদিন থাকতে পারেননি। কিন্তু শেখ হাসিনা পরবর্তী পর্যায়ের বা ধাপের কোনো নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। ধরা যাক, কোনো কারণে শেখ হাসিনা যদি অপারগ হোন বা অনুপস্থিত থাকেন বা অবর্তমান হয়ে যান- তাহলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কে দেবে? সেই জন্য একটি বড় সমস্যা রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে তৃণমূল থেকে এবং সারা দেশে এর শেকড় ছড়িয়ে আছে। সুতরাং সেই আওয়ামী লীগকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে বলে আমি মনে করি এবং দায়িত্ব নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং সতর্ক হতে বলছি সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য।

প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শাসন ফিরিয়ে আনা। বর্তমানে বাংলাদেশে শাসক অনেক আছে কিন্তু শাসন নাই। নেতা অনেক আছে কিন্তু নেতৃত্ব নাই। সেই জায়গাটিতে কাজ করতে হবে আওয়ামী লীগকে। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দারুণ বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। শিক্ষাকে অন্তত তার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। আরেকটি হচ্ছে ধর্মান্ধ এবং সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ভোটের রাজনীতি করতে গিয়ে যে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে তাতে করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা ধর্মান্ধতা উস্কানি পাচ্ছে। সেই জায়গাগুলোতে সতর্ক হওয়ার বিষয় আছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.