এইমাত্র পাওয়া

ভিক্ষা ছেড়েছেন অধ্যক্ষ,দায়িত্ব নিলেন শিল্পপতি

নিউজ ডেস্ক।।
ঠাকুরগাঁও এর পীরগঞ্জ উপজেলার দারুস সালাম সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সেই সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস সালাম এখন আর ভিক্ষে করছেন না। । তার শিক্ষকতা পেশা‌কে সম্মান জা‌নি‌য়ে ইলি‌য়াস হো‌সেন না‌মের এক শিল্পপ‌তি দায়িত্ব নিয়েছেন বৃদ্ধ এ শিক্ষ‌কের। এখন থেকে ওই শিক্ষ‌কের অ্যাকাউ‌ন্টে প্রতিমা‌সে দশ হাজার টাকা ক‌রে পাঠা‌নোর প্রতিশ্রু‌তি দি‌য়ে‌ছেন তিনি। এছাড়াও ঐ শিক্ষকের সামগ্রিক দেখভাল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। জয়তু হে মানবতাবাদী শিল্পপতি ইলিয়াস হোসেন।

জানতে চাইলে বিশিষ্ট এ শিল্পপতি ইলিয়াস হো‌সেন বলেন, মানুষ গড়ার কারিগর একজন শি‌ক্ষক ভিক্ষাবৃত্তির মতো অসম্মানজনক কাজ কর‌বেন তা আমা‌কে মর্মাহত ক‌রে‌ছে। নি‌জের সম্মান রক্ষা‌র্থে তি‌নি নিজ এলাকা ছে‌ড়ে দূ‌রে গি‌য়ে ভিক্ষা কর‌ছেন, তা স‌ত্যিকার অর্থে কষ্টকর। সব কিছু ভে‌বে সিদ্ধান্ত নি‌য়ে‌ছি, যা‌তে ওই অধ‌্যক্ষ জীব‌নের বা‌কি সময়গু‌লো সুন্দরভা‌বে অতিবা‌হিত কর‌তে পা‌রেন, তার জন‌্য প্রতিমা‌সে দশ হাজার টাকা উনার না‌মে ব‌্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠা‌নো হ‌বে। একই স‌ঙ্গে সার্বক্ষ‌ণিক খোঁজ খবর নেওয়া হ‌বে।’

এ ব্যাপারে নিজের অনুভুতি ব্যক্ত করে ঐ শিক্ষক ব‌লেন, আমি ভিক্ষাবৃত্তির মতো পেশা কখনো কল্পনা করিনি। কিন্তু আমি নিরুপায়(বলে কাদঁতে লাগলেন তিনি।) ‘বাঁ পা‌য়ের পক্ষাঘাত নি‌য়ে প্রতি‌নিয়ত মানু‌ষের কা‌ছে সাহায‌্য চাইতাম। অনেক সময় ঠিকমতো খেতে পারতাম না, কারণ যে সামান‌্য অর্থটুকু পেতাম তা দি‌য়ে আমার স্ত্রী ও সন্তা‌নের মু‌খে খাবার তু‌লে দেওয়াই কষ্টকর ছিল। এখন থে‌কে যে টাকা পা‌বো, তা দি‌য়ে অনেক ভা‌লোভা‌বে চল‌তে পারবো।’ আল্লাহ ঐ শিল্পপতি ইলিয়াস হো‌সেন কে যেন উত্তম প্রতিদান দেন বলে অনুভুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আব্দুস সালামের বাড়ি জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি উপজেলাটির দারুস সালাম সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ। আর এই শিক্ষকতার মহান পেশায় নিয়োজিত ছিলেন দীর্ঘ ২২ বছর।

শিক্ষক আব্দুস সালাম জানান, ১৯৯৮ সালে ধানবোঝাই ট্রাক্টর তার পায়ের ওপর পড়ে যায়। বাম ও ডান পায়ের মাংসপেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ায় বাম পায়ের টিস্যু ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরা করতে অক্ষম হয়ে পড়েন।

পরে নিজের শারীরিক অক্ষমতার কারণে সরে দাঁড়ান শিক্ষকতা পেশা থেকে। এদিকে চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তার পরিবার। স্ত্রী ছাড়াও এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। খেয়ে না খেয়ে কোনোভাবে দিনাতিপাত করেন।

অবশেষে লজ্জা আর অপমানে মুখ লুকাতে নিজ এলাকা ছেড়ে দূরে গিয়ে ভিক্ষা করেন এ শিক্ষক। তিনি উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের একটি মসজিদে রাত কাটান এবং সপ্তাহজুড়ে ভিক্ষা করে যে টাকা উপার্জন হয় তা পরিবারের কাছে পাঠান।

এদিকে শিক্ষক আব্দুস সালামের সম্পত্তি বলতে ৩ শতাংশ জমি ছিল। সুস্থ অবস্থায় তিনি হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করেছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ায় হজ্বে যেতে না পারায় জমিটি তিনি স্থানীয় মসজিদের নামে লিখে দেন।

অভাবের কারণে ছেলে-মেয়েকে পড়াশোনা করাতে পারেননি। মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরুতেই কাঠমিস্ত্রি কাজে লেগে যায় ছেলে। মেয়ের বিয়ের বয়স হলেও খরচের কারণে বিয়ে দিতে পারছেন না বলে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন এ শিক্ষক।

আব্দুস সালাম জানান, তিনি রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। ২২ বছর শিক্ষকতা করে তিনি জীবনে কী পেয়েছেন সে প্রশ্ন তার মনে বার বার উঁকি দেয়।

শিক্ষাবার্তা/ বিআ


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.