নিউজ ডেস্ক ঃ
পৌষের শুরুতেই ঢাকাসহ সারাদেশে হাড়-কাঁপানো শীত জেঁকে বসলেও দু’দিন ধরে ধীরে ধীরে কমছে তাপমাত্রা।
বৃহস্পতিবারের মধ্যে দেশের বেশির ভাগ এলাকা থেকে শৈত্যপ্রবাহ সরে যেতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। অবশ্য বিক্ষিপ্তভাবে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে।
বুধবার সকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশে ঝকঝকে রোদ ওঠে। বাড়তে থাকে তাপমাত্রাও। এ দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে তেঁতুলিয়ায়। এর আগে মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে, ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত দু’দিনে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও তা আবার কমতে পারে। চলমান শৈত্যপ্রবাহ বিদায় নেওয়ার পর তিন-চার দিন শীতের স্বাভাবিক আবহাওয়া থাকতে পারে। আগামী ২৭ বা ২৮ ডিসেম্বর থেকে আবারও সারাদেশের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এই শৈত্যপ্রবাহ বেশ তীব্র এবং স্থায়িত্বকালও বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, চলমান শৈত্যপ্রবাহ দেশের বেশিরভাগ এলাকা থেকে বিদায় নিয়েছে। বুধবার দু-একটি এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আবারও উত্তরাঞ্চলসহ মধ্যাঞ্চল আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ শুরুর আশঙ্কা করছি। মূলত আকাশে মেঘ ও কুয়াশা বেড়ে যাওয়ায় শৈত্যপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবারও সকালে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে চারদিক। কিন্তু উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ বলেন, বর্তমানে পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। ছয় দিন ধরে মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগ বেড়েছে। খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন আয় কমেছে।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্য জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
সারাদেশে রাত ও দিনে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
শিক্ষাবার্তা/ বিআ
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
