নিজস্ব প্রতিবেদক।।
শিক্ষক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন পান ডং। পড়াতেন চীনের গুয়াংগহু অঞ্চলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও ভাগ্যের পটপরিবর্তনে ৫৫ বছর বয়সী ডং এখন চীনের শীর্ষ ধনী নারীদের অন্যতম। বর্তমানে তিনি ব্লু মুন গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান, এ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা তার স্বামী লু কিউপিং। তার পরিচালিত সাবান প্রস্তুতকারক কোম্পানিটি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চীনের শীর্ষ তরল-লন্ড্রি ডিটারজেন্ট সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে। হংকংয়ের সবচেয়ে বড় বার্ষিক ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংয়ে (আইপিও) তারা ১০৩ কোটি ডলার অর্জন করেছে।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্সের দেয়া তথ্যমতে, বুধবার ১৬ শতাংশ হারসহ শেয়ার উন্মোচিত হওয়ার পর প্যানের দখলে থাকা ৭৭ শতাংশের নগদ মূল্য গিয়ে দাঁড়ায় ৮০৮ কোটি ডলারে। কেবল একটি ফোনকল থেকে সম্প্রসারণ শুরু হয়েছিল ব্র্যান্ডটির এবং প্যানকে চালিত করেছে শীর্ষ ধনী হওয়ার পথে।
এক দশক আগে প্যান ও তার স্বামী হিলহাউজ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের জাং লেইকে ফোন করেন। তারা জাংকে চীনের প্রথম তরল ডিটারজেন্ট বিকাশের কথা জানান। কোম্পানির অবস্থা ভালো হলেও তার আকার ছিল ছোট। জাং ডিটারজেন্টের বিকাশে তাদেরকে বেশ উৎসাহিত করেন। হিলহাউজ ছিল কোম্পানিটিতে বাইরে থেকে করা প্রথম বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু পথটা সহজ ছিল না। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বাজারে পণ্যের বিকাশের জন্য খরচ লাগছিল বেশি, কিন্তু তার পরও পিছপা হননি তারা। পরবর্তী সময়ে সেই বাজি ইতিবাচক ফলই নিয়ে এসেছিল। এক পর্যায়ে গিয়ে তারা লাভের মুখ দেখতে শুরু করে। তবে আসল সাফল্য আসে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর পর, যখন সাধারণ মানুষ জীবাণুনাশক কেনার জন্য লাইন ধরেছিল।
হিলহাউজের জাং তার বই ‘দ্য ভ্যালু’-তে লেখেন, ব্লু মুন হচ্ছে স্থানীয় ব্র্যান্ড কীভাবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে হারাতে পারে তার ধ্রুপদী উদাহরণ।
অবশ্য তার হেজ ফান্ড বাজিও বেশ আকর্ষণীয় ফল নিয়ে এসেছে। ব্লুমবার্গের হিসাব মতে, হিলহাউজ সব মিলিয়ে ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিল। যেখানে ব্লু মুনের উদ্বোধনী মূল্যে হিলহাউজের অংশের দাম ছিল ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার, অর্থাৎ ২১ গুণ ফেরত এসেছে।
এর আগে গত বছর ব্লু মুনের রাজস্ব বেড়েছিল ৯০ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে হংকংয়ের মুদ্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়নে গিয়ে ঠেকেছিল।
এদিকে কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে লকডাউন দেয়া এবং অনেক দোকান বন্ধ রাখার পর ২০২০ সালে প্রথম ছয় মাসে ব্লু মুনের লাভ বেড়েছিল ৩৯ শতাংশ। যেখানে ৬০ শতাংশ বিক্রি হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে।
প্যান একজন কানাডিয়ান ও হংকংয়ের নাগরিক, যিনি উহান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর জৈব রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর চীনের একটি কলেজে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেন। তিনি ব্লু মুনে যোগ দেন ১৯৯৪ সালে। এরপর কোম্পানিতে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করে ব্লু মুনের অংশীদারিত্ব অর্জন করেন।
নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা দেশগুলোর অন্যতম হচ্ছে চীন। যেখানে বিনিয়োগকারীরা এরই মধ্যে সুবিধা পেতে শুরু করেছেন। ব্লু মুন আইপিওর রিটেইল অংশটি ৩০০ গুণ বেশি ওভারসাবস্ক্রাইব করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অন্য কোম্পানিগুলোও সম্প্রতি উন্নতি দেখিয়েছে।
ব্লু মুনের সফলতার জন্য প্রশংসা পাচ্ছে হিলহাউজও। কেন্টালিন সিকিউরিটিসের বিনিয়োগ পরিচালক মাইকেল কান বলেন, তহবিল দানকারী সংস্থাটি সঠিক কৌশল অবলম্বন করে কোম্পানিগুলোকে ব্যবসা বড় করতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি তিনি ব্লু মুনের ফলের ওপর চোখ রাখবেন বলেও মন্তব্য করেন।
ব্লুমবার্গ অবলম্বনে
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
