এইমাত্র পাওয়া

রাবিতে নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানসহ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব প্রকার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়) নীলিমা আফরোজ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী।
ওই চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, ‘প্রশাসনিক কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
উপাচার্য ছাড়াও চিঠির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর একান্ত সচিবকে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী বলেন, নিয়োগ বন্ধ রাখা সংক্রান্ত একটি চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গত রোববার এসেছে বলে শুনেছি।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) দাখিল করেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ।
পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগসমূহ তদন্তে ইউজিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি উভয় পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনে উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে গত ২১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ইউজিসি। তদন্তে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যদের বিরুদ্ধে ২৫টি অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে আন্দোলনকারী ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, নির্দেশনাটি গত ১০ ডিসেম্বর ইস্যু হলেও গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৫০৩তম সিন্ডিকেটে ইংলিশ এন্ড আদার ল্যাঙ্গুয়েজেজ ইনস্টিউিটে একজন ও ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসে দুইজনকে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন এই চিঠির বিষয়ে জেনেই তড়িগড়ি করে সিন্ডিকেট বসিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে নির্বাচিত কোনো শিক্ষক প্রতিনিধিও ছিলেন না।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.