বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসছে মুসলিশ স্থাপত্যের অনন্য এই নিদর্শন দেখতে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দু-একজন বিদেশি পর্যটকও আসছেন এখানে। পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে ভ্রমণ করে খুশি তারা।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। তবে থাকা এবং খাওয়ার জন্য মানসম্মত হোটেল ও রেস্তোরাঁ না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে দর্শনার্থীদের।
দর্শনার্থীরা জানান, দেশে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত তিনটি দর্শনীয় স্থানের মধ্যে দুটি বাগেরহাট জেলায়। একটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ও প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে নির্মিত ষাটগম্বুজ মসজিদ। এটি মুসলিম স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। এখানে যতবার আসি না কেন, মন ভরে না। বারবার আসতে মন চায়। ষাটগম্বুজ মসজিদকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের জন্য বাগেরহাটে তেমন কোনো স্থাপনা ও অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। তাই বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদের ইতিহাসকে আরও বেশি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে একটি সুভ্যেনির শপ থাকলে ভালো হতো।
রংপুর থেকে আসা দর্শনার্থী আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশের মুসলিম ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ। ইচ্ছে থাকলেও আগে আসা হয়নি। এই প্রথম আসলাম এখানে। ভালোই লাগল। দর্শনার্থী রহিম, কবিরুল ইসলাম, মন্টু, সাব্বিরসহ কয়েকজন বলেন, ষাটগম্বুজে আসলাম। নামাজ আদায় করলাম। মসজিদের নির্মাণশৈলী দেখে আমরা অভিভূত। ৬০০ বছর আগে মানুষের দক্ষতার বিষয়টি চিন্তা করলে অবাক হতে হয়। তবে ষাটগম্বুজ এলাকা ও তার আশপাশে দূরের দর্শনার্থীদের থাকা খাওয়ার জন্য ভালো ব্যবস্থা থাকলে ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থীরা এসে আরও স্বাচ্ছন্দবোধ করতেন। বাগেরহাটে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন বাগেরহাট ট্যুরিস্ট পুলিশ।
বাগেরহাট ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা ও দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা দায়িত্ব পালন করছি। বাগেরহাটের দর্শনীয় স্থানগুলো অন্যান্য জায়গার থেকে নিরাপদ। এখানে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দর্শনীয় স্থানগুলোতে আমাদের ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে। কেউ যদি কোন সহযোগিতার প্রয়োজন মনে করে তাহলে আমাদের ফোন করে জানাতে পারবেন।
বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের কাস্টোডিয়ান গোলাম ফেরদাউস বলেন, শীত আসার পর থেকে আমাদের এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সরকারি রাজস্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত নভেম্বর মাসে ২৬ হাজার দর্শনার্থী ষাটগম্বুজ মসজিদ ভ্রমণ করেন। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
