নিউজ ডেস্ক।।
বাসের সিটে বসে আনমনে মোবাইল ফোন চালাচ্ছিলেন কলেজছাত্র জিসান হাবিব (১৯)। পাশেই বসা ছিল মামাতো ভাই রুহুল আমিন (১৬)। আসমা বেগম নামে এক নিকট আত্মীয়কে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে রাত দুটার দিকে লোকাল বাসে চড়ে তারা আশুলিয়ায় মামার বাসায় ফিরছিলেন।
হঠাৎ বাসের জানালা দিয়ে ছোঁ মেরে জিসানের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় পেশাদার ছিনতাইকারীরা। এ সময় থেমে থাকা বাস থেকে নেমে তারা ছিনতাইকারীর পিছু নেয়। কিছুদুর দৌড়ে ধরেও ফেলেন এক ছিনতাইকারীকে। কিন্তু কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ ছিনতাকারীরা একযোগে তাদের ওপর চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হন দুই সহোদর। এমন পরিস্থিতিতে আশপাশের লোকজন তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা জিসানকে মৃত বলে জানান। বুধবার দিবাগত রাত দুটার দিকে
রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাহ পুর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডটি ঘটে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
উত্তরা জোনের ডিসি মো. শহিদুলস্নাহ বলেন, ঘটনাটি মর্মান্তিক। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাচ্ছে।
জানা গেছে, নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বিহের গাঁও গ্রামের সৌদীপ্রবাসী আবুল বাশারের ছেলে জিসান। নোয়াখালী খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ২৭ নভেম্বর সাভারের নবীনগর এলাকায় মামাতো ভাই ইকবালের বাসায় বেড়াতে আসেন।
এরপর বুধবার দিবাগত রাতে আসমা বেগম নামে এক আত্মীয়কে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে ‘আশুলিয়া ক্লাসিক’ বাসে চড়ে বাসায় ফিরছিলেন। বাসটি উত্তরার আব্দুল্লাহ পুর এলাকায় এসে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় হঠাৎ ছিনতাইকারীরা বাসের জানালা দিয়ে তার মোবাইলসেটটি নিয়ে যায়। পরে তারা বাস থেকে নেমে ছিনতাইকারীর পিছু নেয়। এক পর্যায়ে ধাওয়া করে সোহাগ পরিবহণের কাউন্টারের সামনে গিয়ে এক ছিনতাইকারীকে ধরেও ফেলেন।
হঠাৎই আশপাশ থেকে আরও কয়েকজন জড়ো হয়ে জিসান ও রুহুলের ওপর চড়াও হন। এবং এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শহিদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জিসানকে মৃত বলে জানান। একইসঙ্গে রুহুল আমিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত রুহুল আমিন ধামরাই এলাকার একটি স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র।
পশ্চিম থানার এসআই শামসুল হক জানান, খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে শহিদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত জিসান দুই ভাই তিন বোনের ৩য়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
