এইমাত্র পাওয়া

স্কুলছাত্রের ক্ষুদে বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দিলেন “ঘর ও জমি”

নিউজ ডেস্ক।।

টেকনাফের এক স্কুল ছাত্রের ক্ষুদে বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর সাড়ায় অসহায় মামুনের পরিবার পেল সরকারি খাস জমি ও নব নির্মিত ঘরের চাবি। অজপাডার হতদরিদ্র কিশোর মামুনের পাঠানো খুদে বার্তার (এসএমএস) গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পাঠানো খুদে বার্তার প্রতিও (এসএমএস) গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেই গুরুত্বের কারণে পাল্টে গেল কিশোর মামুনদের পরিবার।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী গ্রামের রিকশাচালক ও মামুনের পিতা রমজান আলী (৪৫) এখন বিশ শতক জমির মালিক। সেই জমিতে একটি নতুন বাড়িও নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কিশোর মামুনের পরিবারকে জমি ও বাড়ি প্রদান করা হয়।

সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন নবনির্মিত ঘরটিতে গিয়ে কিশোর মামুন, তার পিতা রিক্সাচালক রমজান আলী ও তার মা ফাতেমা খাতুনের কাচে চাবি ও দলিল তুলে দেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন আল পারভেজ, টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভুমি) মোঃ আবুল মনসুর, টেকনাফের উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল বশর, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হারুন সিকদার,হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জেলা প্রশাসক দরিদ্র রিক্সা চালককে একটি ইজিবাইকও দেওয়ার আশাস প্রদান করেন।

কিশোর মামুন বলেন, হতদরিদ্র কিশোর মামুন ৭ম শ্রেনীর ছাত্র। মহামারী করোনার কারণে স্কুল বন্ধ। পাঁচ ভাইবোন নিয়ে তাদের পরিবার। বোনের বিয়ে হয়েছে। নিজেদের কোন জমি এবং ঘর নেই। বন বিভাগের জমিতে একটিছোট্ট কুঠিরে বসবাস তাদের। পুরো সংসার অসহায় রিক্সা চালক পিতা রমজান আলীর কাঁধের উপর। পিতার কষ্ট দেখতে খুবই কষ্ট লাগে। তাই অভাবের কারনে অষ্টম শ্রেণী থেকেই পাঠ চুকিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

তিনি আরো বলেন, কিশোর মামুন এরপর একটি দোকানে মাসিক তিন হাজার টাকায় চাকরি নেয়। কিন্তু করোনার কারনে সেই চাকরিও এখন নেই। এদিকে পরিবারের লাগাতার অভাব-অনটনে এক সময় দিশেহারা হয়ে পড়ি। তারপর একদিন প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোবাইল ফোনে একটি খুদে বার্তা পাঠায। মামুন প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছিল, আমাদের কোনো জমিও নেই, ঘরও নেই। আপনার সহযোগিতা চাই। স্কুল বন্ধ থাকায একটি দোকানে কাজ করতাম। মহামারির কারণে সেই কাজও হারাতে হয়েছে।

মামুনের পিতা রিক্সা চালক রমজান আলী বলেন- ব্যাপারটি ঘটে যাওয়ার পর আমার কাছে যেন অবিশাস্য মনে হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ছেলে পাঠানো একটি মেসেজ পেয়ে আমাদের জন্য যে সহযোগীতা করেছেন তা সবার মনে থাকবে। তিনি আমাদেরকে বিশ শতক জমির (সাড়ে ১২ কাঠা)। সেই জমিতে নির্মিত করে দিয়েছে টিন শেড একটি পাকা বাড়িও। আল্লাহর কাছে প্রধানমন্ত্রী জন্য প্রতিদিনই দোয়া করি।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, মাস দেড়েক আগে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে তাকে ঘটনাটি জানানো হয়। টেকনাফের মামুন (১৭) নামের এক কিশোর প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলে একটি খুদে বার্তা প্রেরণ করে। জেলা প্রশাসক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজের মোবাইলে এরকম খুদে বার্তাটি পেয়েই নিন্দ্শেনা প্রদান করেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। এরপর বিষয়টি টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা পর মামুন নামের সেই কিশোরকে খুঁজে বের করা হয়।

বিষয়টি কিশোর মামুনের কাছে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়। কিছুদিনের মধ্যে কিশোর মামুনের পরিবারের কাছে চাবি ও দলিল তুলে দেওয়া হয়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশে রিক্সাচালক রমজান আলীকে স্থানীয় কেরুনতলী নামক এলাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে বিশ শতক সরকারি খাস জমি। রমজানের নামে জমির দলিল এবং খতিয়ানও এর মধ্যে সৃজন করা হয়েছে।সুত্র যায়যায়দিন


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.