নিউজ ডেস্ক।।
মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের ফলাফল শূন্য। শিক্ষার্থীরা শিখছে না কিছুই। শুধু নামকাওয়াস্তেই তারা স্কুলে যাচ্ছে, অ্যাসাইনমেন্ট আনছে আর জমা দিচ্ছে। কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই। বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে বাসায় কম্পিউটারে কিংবা পাড়া-মহল্লার গলির মুখের দোকানেই এখন স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরির কাজ হচ্ছে। কম্পিউটারের মাউস ঘুরালেই মিলছে অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্নের সব উত্তর।
যদিও শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের এসব অসঙ্গতির বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো: গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি গুগল, ইউটিউব কিংবা ফেসবুক থেকে উত্তর লিখে জমা দেয় তাহলে সেটি অনৈতিক হবে। আর শিক্ষকদেরও এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা কোনো অনৈতিক সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিলে তা সতর্কতার সাথে চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনে ওই শিক্ষার্থীর অ্যাসাইনমেন্ট বাতিল করে নতুন করে পুনরায় আবার অ্যাসাইনমেন্ট দিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ স্কুল থেকে অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ ও তার প্রস্তুত করে জমা দেয়ার বিষয়ে অনেক অভিভাবক জানান, করোনায় স্কুল ও কোচিং বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় ছেদ পড়েছে। অনেকের বাসায় গৃহশিক্ষকও নেই। ফলে বাধ্য হয়েই তারা অন্য শিক্ষক কিংবা কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর সংগ্রহ করছে। আবার যাদের বাসায় কম্পিউটারের সুবিধা আছে তারাতো অনায়াসেই ঘরে বসেই পেয়ে যাচ্ছে সব প্রশ্নের উত্তর। যাদের ঘরে কম্পিউটারের সুবিধা নেই তারা পাড়া-মহল্লার কিংবা গলির মুখের কম্পিউটারের দোকান থেকেই অ্যাসাইনমেন্টের সব প্রশ্নের উত্তর প্রিন্ট আউট নিয়ে ঘরে বসেই খাতায় লিখে স্কুলে গিয়ে জমা দিচ্ছে।
অনেক শিক্ষার্থী জানায়, প্রথমে তারা দুই-একজন বন্ধুর কাছে গিয়ে প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করেছে। পরে তারা প্রত্যেকেই বাবা-মা কিংবা পরিবারের অন্য কারো এনড্রয়েট মোবাইলের সাহায্যে উত্তর বের করে সহজে সমাধান করেছে। যাদের মোবাইলের সুযোগ নেই তারা পাশের কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করে সেটিই স্কুলে গিয়ে জমা দিচ্ছে।
সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে এসব নানা অসঙ্গতির বিষয়ে মাউশিতে অভিযোগ জমা হলে নতুন করে ভাবছে তারা। মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষক অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো: গোলাম ফারুক। ইউটিউব ফেসবুক দেখে অ্যাসাইনমেন্ট লিখে জমা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি ইউটিউব কিংবা ফেসবুক থেকে উত্তর লিখে জমা দেয় তাহলে সেটি অনৈতিক হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের কোন কোন বিষয়ে পড়ালেখায় গ্যাপ রয়েছে সেটি যাচাইয়ের জন্যই এই অ্যাসাইনমেন্টের ব্যবস্থা করেছি।
সবাই যদি সব প্রশ্নের উত্তর সঠিক দেয় তাহলে সবাইকেই তো ‘অতি উত্তম’ দিতে হবে। তখন শিক্ষার্থীদের কোন বিষয়ে সমস্যা সেটি বুঝবেন কিভাবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব ছাত্রছাত্রীর মূল্যায়ন এক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেননা কেউ কপি করে উত্তর দিলে শিক্ষকরা সেটি বুঝতে পারেন। ফলে ওই শিক্ষার্থীকে আবার অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয়। আর অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে কোনো শিক্ষক যদি গাফিলতি করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
