বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের উদ্দ্যোগে ওয়ার্কসপ

নিউজ ডেস্ক।।

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের উদ্যোগে ২ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের  Accreditation standards and criteria  শীর্ষক তিন ঘন্টা ব্যাপী ভার্চুয়াল ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. দীপু মনি, এমপি প্রধান অতিথি হিসাবে এবং মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি বিশেষ অতিথি হিসাবে অনলাইন ওয়ার্কসপে অংশগ্রহন করেন।

বিএসি এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে আয়োজিত ওয়ার্কসপে কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য জনাব ইসতিয়াক আহমদ, প্রফেসর ড. মো. গোলাম শাহি আলম, প্রফেসর ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারী অংশগ্রহন করেন। উক্ত ওয়ার্কসপে বিএসি কর্তৃক প্রণীত Accreditation standards and criteriaGi  খসড়া উপস্থাপন করেন কাউন্সিলের সদস্য প্রফেসর এস এম কবীর। উক্ত ওয়ার্কসপটি সঞ্চালনা করেন কাউন্সিলের সচিব প্রফেসর ড. একিউএম শফিউল আজম।

ইউজিসি এর সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমগীর, প্রফেসর ড. বিশ^জিৎ চন্দ, প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের; মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. বেলায়েত হোসেন তালুকদার, মো. আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী, একেএম আফতাব উদ্দিন প্রামানিক, কাজী মনিরুল ইসলাম, মো. ফজলুর রহমান, খালেদা আক্তার; যুগ্ম সচিব মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস; উপসচিব নাসরীর মুক্তি; সিনিয়র সহকারী সচিব নীলিমা আফরোজ, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের; ইউজিসি এর সচিব ড. ফেরদৌস জামান; পরিচালক ড. মো. ফখরুল ইসলাম, মো. ওমর ফারুক, মো. কামাল হোসেন, ড. সুলতান মাহমুদ ভূইয়া; অতিরিক্ত পরিচালক জেসমিন পারভীন; উপপরিচালক বিষ্ণু মল্লিক এবং সহকারী পরিচালক লাবিবা মহসীন আলোচনায় অংশগ্রহন করেন।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী:
যদিও ৭০% শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ হতে আসছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজসমূহের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ে ক্ষেত্রেই মানের অনেক তফাৎ আছে। এই কারনে এই ৭০% শিক্ষার্থীর একটা বিশাল অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে। অনেকেরই সার্টিফিকেট থাকলেও কোন স্কিল নেই। তাই গণহারে অনার্স মাস্টার্সের সার্টিফিকেট না দিয়ে এসকল কলেজের মানহীন কোর্সসমূহ বন্ধ করে দিতে হবে। এসকল কলেজকে ডিগ্রি/পাস কোর্স/শর্ট কোর্স/বিভিন্ন ভাসার কোর্স/বাস্তবমুখী কোর্স চালু থাকবে।অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল ইন্ডাস্ট্রি এবং অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের চাহিদা মোতাবেক কলেজগুলোকে বিভিন্ন কোর্স ও কারিকুলাম তৈরি করতে সহায়তা করবে। তবে এসকল কোর্সেরও মাননিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হবে।

সনদধারী বেকার আর তৈরি করা যাবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে সাথে কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনস্থ সকল কলেজগুলোকে একই মানে নিয়ে আসতে হবে। এই ব্যাপারে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে গাইড লাইন প্রদান করবে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোকে তা সরবরাহ করবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনস্থ কলেজগুলোর দেখাশোনা করার জন্য অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের আলাদা শাখা থাকা উচিৎ যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজসমূহের অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া একই সাথে পরিচালনা করা সম্ভব বলে তিনি মত প্রদান করেন।

ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিজ্ঞান, কলা ও ব্যবসায় শিক্ষা সহ সকল ডিসিপ্লিনের গবেষণা কার্যক্রমকে অর্থায়ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই উদ্যোগ আমাদেরকে (কর্তৃপক্ষকেই) গ্রহণ করতে হবে। সব শেষে তিনি প্ল্যাজুরিজম রোখার ব্যাপারে গুরুত্বদেন। স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে শর্টকোর্স অফার করতে উৎসাহী করতে কাউন্সিলকে ভূমিকা নিতে হবে।

মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী:

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে যেই পলিসি ম্যাটার গুলো দেখতে বলা হয়েছে তারই সেগুলো দেখবেন। কোর্স ওয়েবার, কোর্সের ওয়েটেজ ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের (মন্ত্রনালয়ের) যা জানার বা বলার ছিল তা বলা হয়েছে। যখন অ্যাক্রেডিটেশন রেজিমটা ইমপ্লিমেন্ট হবে তখন আমরা ইউনিফর্মিটি দেখতে পারবো বা ইন্টারন্যাশনাল ষ্ট্যান্ডার্ডে যেতে পারবো। আমাদের কোর্সেরই কোন অ্যাক্রেডিটেশন ছিলনা যেখানে আমরা রাংকিং নিয়ে কথা বলছিলাম। প্ল্যাজুরিজম এর ব্যাপারটাও অ্যাড্রেস করা হয়েছে।

তিনি জানতে চান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা অসংখ্য কলেজের অসংখ্যকোর্সকেও কি কাউন্সিলই অ্যাক্রেডিটেশন প্রদান করবে কি না? তিনি পাবলিক, প্রাইভেট ও ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে চলা তিন ধরণের আলাদা অনার্স প্রগামের সমন্বয়ের ব্যাপারে বলেন।

যে সব কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন থাকবে না, সে সকল কলেজগুলোকে কমিউনিটি কলেজে রূপান্তর করে অনার্সকোর্স বাদ দিয়ে কেবল ভোকেশনাল কোর্সগুলো চালাবার অনুমতি দেয়া হবে। শতবর্ষী কলজেগুলোও যেহেতু মানে পিছিয়ে নেই তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাক্রেডিটেশন দেবার সময় এসব কলেজগুলোকেও অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানের লক্ষ্য রাখতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অধিভুক্ত কলেজগুলোর মূল্যায়ন আলাদা ভাবে করে অ্যাক্রেডিটেশন প্রদান করতে হবে। কেও যাতে অবৈধ পন্থায় অ্যাক্রেডিটেশন বিহীন কোর্স অফার করতে না পারে তিনি এই ব্যাপারে জোর দেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.