নিউজ ডেস্ক।।
করোনার (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধ মহামারীর শুরু থেকেই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাইকেল ফ্রিডম্যান। বাংলাদেশের রেস্তোরাঁগুলোর পরিবর্তে স্কুল খোলা রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।
মহামারীর মধ্যেই বাংলাদেশের স্কুলগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন ডা. মাইকেল ফ্রিডম্যান।
এ বিষয়ে মাইকেল ফ্রিডম্যান বলেন, স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং উন্নতির ওপর সুস্পষ্ট নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই স্কুলগুলো বন্ধ বা খোলা রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তে এটি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি আরো বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা বর্তমান প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ওপর জোর দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের ওপর নয়। তারা আপাতত প্রাপ্তবয়স্ক বা বর্তমান প্রজন্মকে বাঁচতে সহায়তা করার জন্য ভবিষ্যত প্রজন্মকে ধ্বংস হতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, স্কুল বন্ধ করে কোনো উপকার পাওয়া যাচ্ছে কিনা তা বড় প্রশ্ন। আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, স্কুল এবং রেস্তোরাঁর মধ্যে আমি কোনটি বন্ধ রাখার পক্ষে। আমি বলব রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ করুন এবং স্কুলগুলো খুলে দিন।
শিশুদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং তাদের মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা আরো কম বলেও জানান ডা. ফ্রিডম্যান। তিনি বলেন, যদি কোনো শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তি বসে থাকে এবং উভয়ই যদি করোনায় আক্রান্ত হয়, তাহলে ওই প্রাপ্তবয়স্কের মাধ্যমে আপনার করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, শিশুর থেকে নয়।
স্কুলগুলো থেকে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে কিনা- এর জাববে ডা. ফ্রিডম্যান জানান, করোনার ক্ষেত্রে এটি সত্য না হলেও, ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে এটি সত্য।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং উন্নতি, পরিবারের আয় ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
এই সংস্থাটি পুনরায় স্কুল খোলার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনা করা উচিত বলে জানিয়েছে। সেগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষ করতে সহায়তা এবং পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ অব্যাহত রাখা, প্রয়োজনীয় পরিষেবা, পুষ্টি নিশ্চিত করা, শিশু কল্যাণ যেমন শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ, সামাজিক এবং মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, কীভাবে নিজেকে এবং অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে হবে সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ, স্কুলে ফিরে না আসার ঝুঁকি হ্রাস এবং সমাজের উপকার করা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
