পথশিশুদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘আমাদের বিদ্যানিকেতন’

নিউজ ডেস্ক।।

যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে একটু সামনে এগোলেই দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। কলেজের সামনের রাস্তার ফুটপাতে দেখা মেলে গোটা চল্লিশেক পাঁচ-দশ বছর বয়সি শিশুর জটলা। শিশুগুলো কেউ-ই সচ্ছল পরিবারের নয়, কেউ জানে না তার পরিবার কোথায়। কেউ হয়তো চায়ের ফ্লাস্ক পাশে রেখেই আনমনে ছবি আঁকছে, কেউ উদম গায়ে বসে খাতায় বর্ণমালা লিখছে, কেউ লুডু খেলছে।

এটি একটি স্কুল। শনিরআখড়ার পথশিশুদের প্রিয় ‘আমাদের বিদ্যানিকেতন’। সপ্তাহের সাত দিন বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এই অনাহারে-অর্ধাহারে থাকা ফুটপাতে দিন কাটানো শিশুদের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন আমাদের বিদ্যানিকেতনের প্রায় দুই ডজন স্বেচ্ছাসেবক।

সপ্তাহের সাত দিনই চলে তাদের পাঠদান। একদিন বাংলা বর্ণমালা শেখানো হলে অন্যদিন চলে ইংরেজি বর্ণমালা শেখানো। আরেকদিন গণিত কিংবা বিজ্ঞান। এসব কিছুর সঙ্গে ছবি আঁকা কিংবা খেলাধুলাও বাদ যায় না। পড়া শেষে সবার জন্য থাকে খাবারের ব্যবস্থা। শুক্রবার থাকে বিশেষ খাবার।

এখানে যুক্ত থাকা স্বেচ্ছাসেবকরাই শিশুদের প্রয়োজনীয় বই, খাতা, কলম, পেনসিল থেকে শুরু করে খাবারের টাকাও দেন নিজেদের পকেট থেকেই। স্বেচ্ছাসেবক প্রত্যেকেই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। যেদিন যার ক্যাম্পাস বন্ধ থাকে সেদিন তিনি পাঠদান করেন।

স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা তিন তরুণ-হৃদয় ভূইয়ান, আলী আফসার ও মামুন আহমেদ। গত দেড় বছরে তাদের সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হয়েছেন। বিশেষ কোনো দিন ছাড়া সবকিছু স্বাভাবিক ও পূর্ব নির্ধারিত নিয়মেই চলছে। স্কুলটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা আলী আফসার বলেন, ‘স্কুলটিতে প্রতিনিয়ত কিছু সমস্যা লেগেই থাকে। এখানে পড়া বেশিরভাগ শিশুই ফুটপাতে ঘুমায়। ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে নাইট শেল্টার হোম বানানোর।

আমাদের যতটা সামর্থ্য আছে তা দিয়েই করার চেষ্টা করছি। আগে শুধু এখানে আসা শিশুদের বই, খাতা, পেনসিল দিতে পারতাম। এখন খাবারের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে থাকার জায়গাও দিতে পারব।’

আমাদের বিদ্যানিকেতনের কাজ শুধু পড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ফুটপাতে মানবেতর জীবনযাপন করা শিশুদের ভেতর মানবিক গুণগুলো ফুটিয়ে তোলার চেষ্টাও করেন তারা।

মানসিক ভারসাম্যহীন শিশুদের সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সুন্দর একটি জীবন উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে বড় বাধা নিয়মিত ডোনার পাওয়া। মাঝেমধ্যে কিছু সামাজিক সংগঠন তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এত অপ্রতুলতার মধ্য দিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই তরুণরা নিজেদের জমানো অর্থ পথশিশুদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ব্যয় করে যাচ্ছেন, এর চেয়ে সুখকর আর কী হতে পারে?


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.