নিউজ ডেস্ক।।
ফ্রান্সে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গ কার্টুন করার প্রতিবাদে বাগেরহাটের শরনখোলায় ইমাম পরিষদের আহবানে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। ৩০ অক্টোবর (শুক্রবার) জুমার নামাজ শেষে শরণখোলা প্রেসক্লাব চত্তর থেকে রায়েন্দা বাজার পাঁচ রাস্তার মোড় পর্যন্ত সড়কের উভয় পার্শ্বে স্থানীয় জনসাধারন দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন।
রায়েন্দা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ও শরণখোলা ইমাম পরিষদের সভাপতি হাফেজ মুফতী মাওলানা মোঃ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে হাফেজ মাহাদী হাসানের সঞ্চলনায় বক্তব্য রাখেন মাওঃ আঃ লতিফ, মাওঃ আশ্রাফ আলী, মাওঃ শাহরিয়ার নবীন সহ অনেকে ।
মুফতী মনিরুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, অন্ধকার আচ্ছন্ন পৃথীবিকে আলোকিত করতে ৫৭০, খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশে মহান আল্লাহতালা যাকে সারা বিশ্বের জন্য শান্তির দুত হিসাবে প্রেরিত করেছেন অবিলম্বে ফ্রান্সের বহুতল ভবন থেকে সেই মহা মানব আমাদের মুসলমানদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে তৈরী করা ব্যাঙ্গ কার্টুন অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং সাড়া বিশ্বের তাওহীদি মুসলিম জনতার কাছে ওই দেশের সরকারকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
তা না হলে সকল ইসলামী দল নিয়ে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে লং মার্চ কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে দুতাবাদ তুলে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান। পরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ’র ছবি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
সেখানে সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদি জনতার নেতৃবৃন্দ । বক্তারা ফ্রান্সের পণ্য বর্জন সহ সরকারের কাছে বাংলাদেশে অবস্থিত ফ্রান্স দূতাবাস তুলে দেয়ার দাবি জানান। সমাবেশে মুহাদ্দিস মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মাওলানা রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তারা রাসুল (সা:) ও ইসলামকে অবমাননা কারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার আয়োজনে আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ হবের কুশ পুত্তলিকা পোড়ানো হয়।
মিছিল শেষে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কলাপাড়া পৌর শহরের বড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা সাইদুর রহমান, মাওলানা ইব্রাহীম, কলাপাড়া কোর্ট মসজিদের ইমাম ও এতিমখানা হাফেজি মাদ্রাসার প্রধান মো.মুসা ও কলাপাড়া ফিসারিজ মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো.ফেরদৌস প্রমুখ।
সারা বিশ্বে এই আদর্শ সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারলে আজও পৃথিবী হবে শান্তির এবং বসবাসযোগ্য। মসজিদে জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে পেশ ইমাম ও খতিবরা এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যবিধি না মানলেও মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব শাহ সুলতান ( রহ.) কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাইখ মাও মোঃ দুরুল হোদা বলেন, আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নয়, ফ্রান্স নবী সাহেবের যে অবমাননা করছেন তার দাঁত ভাঙা জবাব দিতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এর তীব্র প্রতিবাদ করতে হবে যেন আর কোন রাষ্ট্র এ ধরনের কাজ করার সাহস না পাই। তিনি আরও জুমার খুৎবাপূর্ব বয়ানে বলেছেন, মহান আল্লাহর পর যিনি সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী তিনি হলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)। রাস্তায় চলার সময় পাহাড়,বৃক্ষ ও পাথরও তাঁকে সালামের হাদিয়া পেশ করে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। তাঁর আঙ্গুলের ইশারায় চন্দ্র পর্যন্ত দ্বি-খন্ডিত হয়েছে।
মহান রাব্বুল আলামীন তাঁকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত করে প্রেরণ করেছেন। কাল ক্বিয়ামতের দিন যখন সবাই চিৎকার করবে নাফসী নাফসী করে তখন তিনি কাঁদবেন উম্মাতী উম্মাতী করে। তিনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। তাঁর উম্মত হতে পারা আমাদের জন্য এক পরম সৌভাগ্য ও পরিতৃপ্তির বিষয়। আর তাঁর প্রতি কোনরূপ বিদ্বেষ পোষণ করা অপরিণামদর্শিতা বৈ আর কিছুই নয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা ফরমান তোমরা যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর তবে জেনে রেখ আল্লাহ, জিব্রাঈল এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ তাঁর সহায়।
উপরন্তু ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী। (সূরা তাহরীম, আয়াত-৪) অন্য আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, নবী আমার! বিদ্রপকারীদের বিরুদ্ধে আপনার পক্ষে আমি একাই যথেষ্ট। (সূরা হিজর,আয়াত-৯৫)। মাওলানা আফেন্দী আরো বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট রাসূল (সা.) এর অবমাননাকে সমর্থন ও প্রশ্রয় দিয়ে চরম ধৃষ্ঠতাপূর্ণ আচরণ করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) এর সম্মান সুরক্ষিত না থাকলে আমাদেরও বেঁচে থাকার কোন স্বার্থকতা নেই। সি এন্ড বি জামে মসজিদের ঈমাম হাফেজ কারী মিম ওবাইদুল্লাহ বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করে রাসূল (সাঃ) কে অবমাননা করা এটা কোন মসুলমান সহ্য করতে পারেন না।
পঁচিশ বছর বয়সে আম্মাজান খাদীজা (রা.) কে বিয়ে করে নারীদের অধিকারকে সমুন্নত করেন। এছাড়া ধনাঢ্য খাদীজা (রা.) এর সমস্ত সম্পদ গরীবকে বিলিয়ে দিয়ে মানবতার মহানজিরও স্থাপন করেন। চল্লিশ বছর বয়সে মহান আল্লাহর গভীরতর নৈকট্য পেতে হেরাগুহায় ইবাদত-বন্দেগিতে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীপ্রাপ্ত হন। ওহীপ্রাপ্তির পর তা পথহারা মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য হন্যে হয়ে ছুঁটতে থাকেন। মক্কার কাফেররা বাপ-দাদার ধর্ম ছেড়ে এই নতুন ধর্মকে একটুও মেনে নিতে চাইলো না। নানান ধরনের রাজকীয় লোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি কাফেররা অকথ্য নির্যাতন চালাতে থাকে প্রিয় নবীর ওপর। এরপরও ওরা প্রিয়নবীকে সত্য ও সুন্দরের প্রচার থেকে একটুও বিরত রাখতে পারেনি। এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় মহানবী (সা.) মদীনায় হিজরত করেন।
স্বল্পসংখ্যক সৈন্যবাহিনী নিয়ে বদর প্রান্তরে জিহাদ পরিচালনা করে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান ও অটল তাওয়াক্কুলের প্রমাণ দেন তিঁনি। মদীনা সনদের মাধ্যমে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে রাষ্ট্রীয় ঐক্য স্থাপন করেন এবং অনুপম নেত্বত্বের পরিচয় দেন। হুদায়বিয়ার সন্ধিতেও বিরল ত্যাগ ও সুদূরপ্রসারী বিজয়কৌশলের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। অবশেষে বিনা রক্তপাতে শুধুমাত্র সাম্য, মানবতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে পবিত্র নগরী মক্কা বিজয় করেন মহানবী (সা.)।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
