অনলাইন ডেস্ক :
দেখতে দেখতে সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার এক বছর পূর্ণ হলো। কাল থেকে সব ধরনের ক্রিকেটে খেলতে পারবেন তিনি। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার নভেম্বরে টি২০ টুর্নামেন্ট দিয়ে ফিরবেন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে। সাকিবের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় স্বস্তি ফিরছে দেশের ক্রিকেটে। ‘১৮ মাস নিষিদ্ধ হচ্ছেন সাকিব’- এই শিরোনামে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর সমকাল নিউজ ব্রেক করে। সেদিন সন্ধ্যায় বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারকে দুই বছর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এ দুই বছরের মধ্যে এক বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। মূলত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে এক বছর। ভারতীয় জুয়াড়ি দীপক আগারওয়ালের কাছ থেকে তিনবার ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার ঘটনা আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগকে (এসিইউ) না জানানোয় এই শাস্তি পান সাকিব।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে দু’বার ও এপ্রিলে আইপিএল ম্যাচের আগে হোয়াটসঅ্যাপে আগারওয়ালের বার্তা পান সাকিব। ১৯ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আর ২৩ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে ম্যাচের আগে এ ঘটনা ঘটে। একই বছর ২৬ এপ্রিল আইপিএলে একটি ম্যাচের আগেও আগারওয়ালের কাছ থেকে বার্তা পান তিনি। অথচ আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানাননি। এসিইউ কর্মকর্তাদের তদন্তে বিষয়টি বেরিয়ে আসার পর ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি ও ২৭ আগস্ট সাকিবের সাক্ষাৎকার নেন তারা। তাদের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে এসিইউর তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন সাকিব। এতে তার শাস্তিও কম করে দেয় আইসিসি অ্যান্টিকরাপশন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছর ২৯ অক্টোবর আইসিসির রায় ঘোষণার পরই সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবির তত্ত্বাবধানে সংবাদ সম্মেলনে নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন সাকিব। খেয়ালি ভুলের কারণে ক্যারিয়ারে নিষেধাজ্ঞার মতো স্পট পড়ায় সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন টাইগারদের সাবেক এ অধিনায়ক। নিষেধাজ্ঞার এক বছরে আইসিসির সব শর্ত মেনে চলেছেন তিনি। গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেএসপিতে একান্তে অনুশীলনের আগেও আইসিসির অনুমতি নিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী সব্যসাচী এ ক্রিকেটার। শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন তিনি। বিসিবি চেয়েছিল, লঙ্কা সফরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট দিয়ে প্রত্যাবর্তন করবেন দেশসেরা এ ক্রিকেটার। শ্রীলঙ্কায় কোয়ারেন্টাইন জটিলতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত সফরটি বাতিল হওয়ায় আমেরিকায় স্ত্রী-কন্যাদের কাছে ফিরে গেছেন সাকিব। বর্তমানে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে রয়েছেন তিনি। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন রোববার মিরপুরে প্রেসিডেন্টস কাপের ফাইনাল শেষে জানিয়েছেন, পাঁচ দলের টি২০ টুর্নামেন্ট খেলতে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরবেন সাকিব।
নিষেধাজ্ঞার এক বছরে খুব বেশি খেলা ‘মিস’ করেননি সাকিব। জাতীয় দলের ভারত ও পাকিস্তান সফর এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলা হয়নি তার। করোনাভাইরাসের কারণে একের পর এক সিরিজ ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট স্থগিত হওয়ায় সাকিবকে খুব বেশি আক্ষেপে পুড়তে হয়নি। এ সময়ে পৃথিবী আগের মতো স্বাভাবিক থাকলে আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সাকিবকে ছাড়াই খেলত বাংলাদেশ। টি২০ এশিয়া কাপ, টি২০ বিশ্বকাপেও খেলা হতো না বাঁহাতি এ অলরাউন্ডারের। কভিড-১৯ মহামারির কারণে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলো স্থগিত করা হয়েছে। এশিয়া কাপ ২০২১ আর বিশ্বকাপ ২০২৩ সালে পেছানো হয়েছে। সুস্থ থাকলে ২০২১ সাল থেকে টানা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাবেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে বঙ্গবন্ধু বিপিএল, জাতীয় লিগ, বিসিবিএল খেলা হয়নি তার। ১৬ মার্চ প্রথম রাউন্ড শেষে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) স্থগিত হওয়ায় নতুন করে খেলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সাকিবের। বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টি২০ লিগের মধ্যে সিপিএল ও আইপিএলে খেলা হয়নি।
গত এক বছরে সাকিবকে ছাড়া খেলা জাতীয় দলের পারফরম্যান্স ভালো হয়নি। চারটি টেস্ট ম্যাচ খেলে তিনটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে একটি টি২০ জিতলেও টেস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি মুমিনুলরা। এ বছর পাকিস্তান সফরে টি২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হন মাহমুদুল্লাহরা। তবে ফেব্রুয়ারি-মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে তিন সংস্করণেই জিতেছে বাংলাদেশ। সাকিবের প্রত্যাবর্তনে জাতীয় দল নিয়েও নতুন করে পরিকল্পনা করতে পারবে বিসিবি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
