মোহাম্মদ ইমদাদুল হক মিলন।।
মাদারীপুরের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে অনেকটাই বাধ্য হয়ে কষ্ট করে ফরম পূরণ করছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে নির্বাচনী পরীক্ষায় যারা অকৃতকার্য হয়েছে তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত জরিমানা।
বেশির ভাগ বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের ভাষ্য, জেএসসি পরীক্ষায় বোর্ড ফি সাথে কল্যাণ তহবিল, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাওফিল, জরিমানা, যাতায়াত, ইন্টারনেট বিলসহ একাধিক বিষয় সংযুক্ত করে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করা হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, মাদারীপুরের ৪টি উপজেলায় ১৬৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৭০টি মাদ্রাসা রয়েছে। এবারের জেএসসি পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ টাকা। বিলম্ব ফি ধরা হয়েছে ২৫ টাকা। গত ৩০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি স্কুলে ফরম পূরণ অনুষ্ঠিত হয়। বিলম্ব ফি দিয়ে ৬ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট করা যাবে ফরম পূরণ।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্বী উচ্চ বিদ্যালয়, শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাদারীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মিঠাপুর এল.এন উচ্চ বিদ্যালয়, খালাসীকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়, ঘটকচর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, চরমুগরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তাঁতিবাড়ি ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ফরম পূরণে প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা করে। যা নির্ধারণ ফি’র চেয়েও দ্বিগুন বেশি।
এছাড়াও সদরের চরমুগরিয়া মার্চেন্টস্ উচ্চ বিদ্যালয়, আলজাবির উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয়, আচমত আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়, শেখ শহিদুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়, খোঁয়াজপুর উচ্চ বিদ্যালয়, চরগোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ঘুনসী উচ্চ বিদ্যালয়, জুলিও কুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ বাচ্চু উচ্চ বিদ্যালয়, মুক্তিসেনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নেয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। অন্যদিকে ৭০০ টাকা করে নিচ্ছে ল²ীগঞ্জ বেপারীবাড়ি সেসিপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। সদর উপজেলার ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ডনোভান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় থেকে বাদ দেয়নি। তারা ২৫০ টাকা বিপরীতে ২৭০ টাকা করে ফরম পূরণে আদায় করেছে।
মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী ওবায়দুর হক বলেন, ‘আমরা জেএসসিতে ২৫০ টাকা করেই ফরম পূরণ করেছি। তবে শিক্ষার্থীদের বেতন বকেয়া থাকলে তাদের জন্য নির্ধারিত ফির সাথে অতিরিক্ত টাকা যোগ করা হয়েছে। ফরম পূরণের সময় বকেয়া ফি আদায়ের নিয়ম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষার সময় অনেকেই বকেয়া বেতন পরিশোধ করে না। তাই নিয়ম না থাকলেও নিতে হয়।’
জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের স্যারেরা জরিমানা, স্কুলের কল্যাণ তহবিল বিভিন্ন বিষয় দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। তাদের চাহিদা অনুসারে টাকা না দিলে স্যারেরা ফরম ফিলাপ করবেও না। তাই আমাদের কষ্ট হলেও বাধ্য হয়েই বেশি টাকা দিতে হয়েছে।
সরাকারি ইউনাটেড ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘জেএসসিতে আমাদের ৩০৫ জন পরীক্ষার্থী। আমরা ইন্টারনেট খরচ বাবদ ২০ টাকা করে বেশি ধরেছি। অন্যান্য স্কুল আমাদের থেকে অনেক বেশি ধরেছে।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, জেএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে বাড়তি এক টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যারা এটা করছে তারা অন্যায় করছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। যদি কোন স্কুল ফরম পূরণে অনিয়ম করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
