নিজস্ব প্রতিবেদক।।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এবার ঢাকায় হবে না কুমারী পূজা। এছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টার মধ্যে সারাদেশে মণ্ডপগুলো বন্ধ করতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পূজা উদযাপন বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত।
তিনি জানান, সাধারণত ঢাকায় রামকৃষ্ণ মিশনে অষ্টমীর দিন কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এবার করোনা পরিস্থিতিতে কুমারী পূজা হবে না সেখানে। তবে ঢাকার বাইরে দুই-এক জায়গায় হতে পারে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিঁদুর খেলা নিয়ে এখনো আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।
অন্যদিকে সারাদেশে পূজা উদযাপন বিষয়ে পাঠানো ২৬ দফা নির্দেশনার পাশাপাশি আরো সাত দফা নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি। সেখানে বলা হয়েছে, রাত ৯টার মধ্যে দর্শনার্থীদের জন্য মন্দির বা পূজা মণ্ডপ বন্ধ করতে হবে।
করোনা আতঙ্কের আবহেই আগামী ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এদিন দেবীর বোধন।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়া অনুষ্ঠিত হয়। পুরাণ মতে, এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। মহালয়ার ছয় দিন পর পূজা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা অনুষ্ঠিত হয়নি। আশ্বিন মাস মল (মলিন) মাস হওয়ায় এবার দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে প্রায় এক মাস পর আগামী ২১ অক্টোবর থেকে।
পঞ্জিকা মতে, ২০২০ সালে মা দুর্গার আগমন হচ্ছে দোলায়। দোলায় চড়ে বাপের বাড়ির উদ্দেশে স্বামীর ঘর থেকে রওনা দেবেন তিনি। ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, দোলায় আগমন এর অর্থ মড়ক। ফলে পূজার বা তার পরবর্তী সময়েও মহামারির পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মায়ের গমন এবার গজে। অর্থাৎ হাতিতে চড়ে মা বাপের ঘর ছেড়ে পাড়ি দেবেন স্বর্গে। গজে চড়ে গমনের ফল শুভ হয়। তবে এই বছরের পূজা অন্যান্য বছরের মতো নয়। করোনা আতঙ্কের আবহেই এবার দেবীপক্ষের সূচনা হয়। আর মহামারির দুর্যোগ মাথায় নিয়েই এবার হচ্ছে মাতৃবন্দনা।
উল্লেখ্য, এবার সারাদেশে ৩০ হাজার ২২৫টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুর্গাপূজা। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৩৯৮টি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
