এইমাত্র পাওয়া

এই বাংলাদেশ দেখার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি

নিজস্ব প্রতিনিধি ।।

মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেছেন, আজকের এ বাংলাদেশ দেখার জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করিনি। এ ধর্ষক ও দুর্বৃত্তে ভরা এ দেশ, সে দেশ নয়, যে দেশ আমরা স্বাধীন করেছিলাম। এ দেশ সে দেশ নয়, যে দেশ বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারী নির্যাতনের চেয়েও দেশে ঘৃণ্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা এখনো পুরানো ব্লেম গেম খেলছেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছেন। এখন রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এ সমাজ বদল করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদী অবস্থান’ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ প্রতিবাদ সভায় দেশ জুড়ে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বন্ধে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। সেসঙ্গে ধর্ষণ আইনের সংস্কার, শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা। সেসঙ্গে দেশ জুড়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়। এর অংশ হিসেবে আগামী ১০ অক্টোবর সারা দেশে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় এ সভা থেকে। জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফের স্বাগত বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় এ প্রতিবাদ সমাবেশ।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ধর্ষক, দুর্বৃত্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে সুস্পষ্ট নীতি ও পথ গ্রহণ করতে হবে। সরকারের ক্ষমতার ছত্রছায়ায় এ দুর্বৃত্তরা বেড়ে উঠেছে। পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা বলেন, দেশে ‘আপস’ ও ‘ভয়’-এর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। দলীয় রাজনীতি এ দুর্বৃত্তদের সঙ্গে আপস করছে। চিত্রনায়িকা অরুণা বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো প্রান্তে নারী ধর্ষিত হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে। দেশের এ পরিস্থিতির জন্য নারীরা লজ্জিত, আতঙ্কিত। এ বাংলাদেশ কবে বদলাবে?

এ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন নাট্যব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, চারুশিল্পী সংসদের সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী, মিজানুর রহমান, মো. বারী, চন্দন রেজা প্রমুখ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.