প্রেসবিজ্ঞপ্তি
“বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২০” উপলক্ষ্যে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী দেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ শিক্ষক সংগঠন ‘বাংলাদেশ শিক্ষকসমিতি (বিটিএ) ’র উদ্যোগে ৫ অক্টোবর ২০২০ সোমবার সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের “তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হল” এ সম্পূর্ণ স্বাস্থবিধি মেনে“মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ”এর এক দফা দাবীতে বিটিএ’র সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃবজলুর রহমান মিয়া’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ এর সঞ্চালনায় এক “অলোচনা সভা ”অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক “প্রধানআলোচক” হিসেবে ভার্চুয়ালী অংশগ্রহণ করেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য জনাব মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ভার্চুয়ালী অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক বাবু অজয় দাসগুপ্ত।
আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) ’র অন্যতম উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য বাবু রঞ্জিত কুমার সাহা এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) ’র সিনিয়র সহ সভাপতি জনাব মোঃ আবুল কাশেম । আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহসভাপতি বেগম নূরুন্নাহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জামিল মোঃ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, অর্থ সম্পাদক মোস্তফা জামান খান, সহ মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শাহানা বেগম সহ প্রমুখ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে-Teachers: Leading in crisis, reimagining the future. শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী “বিশ্ব শিক্ষক দিবস”পালিত হয়ে আসছে । ইউনেস্কো ১৯৯৪ সাল থেকে দিবসটি পালন করে। অথচ আমাদেরে দেশে সরকারীভাবে দিবস পালন করা হয়না।
“বিশ্ব শিক্ষক দিবস”রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানানো হয়। প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, শিক্ষকদের অনেক সমস্যা আছে সেগুলো সমাধানের জন্য বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কিছু সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধানও করা হয়েছে। ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুসারে শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করেই সমস্যা সমাধান করতে হবে।
তবে শিক্ষকদের অধিকারের সাথে দায়িত্ব পালনেও সচেতন হতে হবে। জনাব মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা জাতির মেরুদন্ড ঠিক করতে পারিনি। শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার দিয়েই সমাজের উন্নয়ন সাধন করতে হবে। বাবু অজয় দাসগুপ্ত বলেন, শিক্ষক সংগঠনগুলোকে তাঁদের অধিকার ও মর্যাদার লড়াই এর পাশাপাশি শিক্ষার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে।
আলোচকবৃন্দ বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখে শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানকে প্রকারান্তরে অস্বীকার করা হচ্ছে। সভায় মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ না করায় এবং কোন রূপ সুযোগ-সুবিধা না বাড়িয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে ৬% এর স্থলে১০% কর্তন করায়গভীর ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর যুদ্ধবিধস্ত অবস্থায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে প্রায় ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন এবং একইভাবে বঙ্গবন্ধু তনায়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে প্রায় ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করেছেন।জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুররহমানবলেছিলেন,“সুষ্ঠসমাজব্যবস্থা গড়ে তোলারজন্য শিক্ষাখাতেবিনিয়োগের চেয়েউৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর কিছু হতে পারেনা”।তাই মাধ্যমিক শিক্ষাজাতীয়করণ এখন সময়ের দাবী।
এ দাবীর প্রতি ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন রয়েছে । কারণ প্রাথমিকস্তর শেষ করা শিক্ষার্থীদের অনেকেই আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে লেখা-পড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে ।
শুধু তাই নয়, সুবিধাবঞ্চিত এ সকল শিশুরা নানামূখি অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে টেকসই উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে। তাছাড়া বিশ্ব মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারণে অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তানরা শিক্ষা ব্যয় মিটাতে ব্যর্থ হয়ে বাধ্য হয়ে পড়াশুনে ছেড়ে দেবে। তাই টেকসই উন্নয়ন সহ দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ না করে একযোগে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা একান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে ।
আলোচকবৃন্দ বলেন, সরকার যেহেতু মুল বেতনের ১০০% প্রদানসহ অন্যান্য সকল সুবিধাদির আংশিক প্রদান করেন সেহেতু প্রতিষ্ঠানের আয় সরকারি কোষাগারে দেয়া হলে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের জন্য সরকারের খুব বেশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। এমতাবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে “মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ” এর আহবান জানান।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
