রোববার ক্যাম্পাসে যোগদান করবেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৩তম উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আব্দুস সালাম। নতুন উপাচার্যকে বরণ করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পূর্বেই তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কিছু নিয়ম নীতিও দিয়ে দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া তার প্রথম দিনের কার্যপ্রণালীও তৈরি করেছেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ। এদিকে নতুন উপাচার্য আসার পূর্বেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি করেছে সাবেক উপাচার্য বিরোধীরা। তারা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আশকারী, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানসহ তাদের পন্থী শিক্ষক কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন বলে জানা গেছে।
রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ জানান, সকাল নয়টায় ‘মৃত্যুঞ্জীয় মুজিব’ মুর্যালে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়ার মধ্যদিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কার্যদিবস শুরু করবেন তিনি। পরে সদ্য সাবেক উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষ ও বর্তমান উপ-উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। এরপর শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সহায়ক কর্মচারী সমিতি, বিভিন্ন শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে তিনি সাক্ষাত করবেন বলে জানান রেজিস্ট্রার। এ ছাড়া করোনা মহামারিতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যালয়ে সর্বোচ্চ চারজন ব্যক্তি প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
এদিকে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পূর্বেই সাবেক উপাচার্য বিরোধীরা উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেল চারটার দিকে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা করেছে কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবুল আরফিনসহ পরিষদের নেতা অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, অধ্যাপক মিজানুর রহমান, অধ্যাপক আলোমগীর হোসেন ভূঁইয়া, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শামসুজ্জোহা, সাধারণ সম্পাদক মীর মোরশেদ, ছাত্রলীগের একাংশের নেতা মিজানুর রহমান লালন, ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত, তৌকির মাহফুজ মাসুদ, শিশির ইসলাম বাবুসহ ৫০ জনের বেশি শিক্ষক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রীগের নেতা কর্মী। এসময় তারা সদ্য সাবেক উপাচর্য অধ্যাপক আশকারী, সাবেক প্রক্টর ও শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবর রহমানকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য রেজিস্ট্রারকে নিষেধ করতে বলেন বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বর্তমান প্রক্টর অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্ম্মনের পদত্যাগ দাবি করেন। রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নির্বাচিত শিক্ষক ইউনিট ও শাপলা ফোরামের নেতৃবৃন্দকে নতুন উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাত করতে নিষেধ করেন।
রেজিস্ট্রার বলেন, ‘আমি তাদের জানিয়েছি- যাদেরকে ক্যাম্পাসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমি তাদের নিষেধ করতে পারি না। বিষয়টি উপাচার্য মহোদয়কে জানালে তিনি একমাত্র শিক্ষক সমিতি ছাড়া আর কোন সংগঠনের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন না বলে জানিয়েছেন। সেই সাথে সাবেক প্রশাসনের সাথে বিকেলে বাসভবনে সাক্ষাত করতে চেয়েছেন।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আব্দুস সালাম বলেন, ‘এগুলো অতি উৎসাহী লোকের কাজ। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। আমি কার সাথে দেখা করবো না করবো এ বিষয়ে কারো কৃপা নেব না। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ধারণা সাবেক প্রশাসন আমাকে দিতে পারবে। আমি প্রত্যাশা করবো একজন শিক্ষক শিক্ষকের মতো আচরণ করবেন।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
