কবিতা: অকৃতজ্ঞ সন্তানের ফরিয়াদ

অকৃতজ্ঞ সন্তানের ফরিয়াদ
-ড. ডি.এম. ফিরোজ শাহ্

হে পিতা,
হে জাতির জনক
আমি তোমার সাড়ে সাত কোটি থেকে বর্ধিত
বার কোটির এক অধম সন্তান
শরতের এ নরম প্রভাতে
কোমল বাংলার ক্ষত-বিক্ষত সমাজে বাস করে
বড় বেশি মনে পড়ছে তোমায়
শের নাদে তোমার উচ্চারণ ছিলো-
বাঙ্গালীরে দাবায়ে রাখতে পারবানা…
না কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারেনি
পারেনি পাকিস্তানী দুর্বৃত্তরা
চীনা বুলেট
সামাজ্যবাদী শক্তির মদদ,
কিন্তু দেবে গেছি আমরাই।

হে পিতা,
সাতই মার্চ একাত্তরে
উত্তাল জনসমুদ্রে
শাহাদাত অঙ্গুলি উচিয়ে
বজ্র নিনাদে তুমি ঘোষণা করে ছিলে-
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
হ্যাঁ, মুক্তি আমরা পেয়েছি
স্বেচ্ছাচারের জন্য
স্বাধীনতাও আমরা পেয়েছি
ঘুষ, দুর্নীতি, হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, আর
ইতিহাস বিকৃতির।

হে পিতা
হে বঙ্গ শার্দুল,
তোমার জলদ গম্ভীর কন্ঠের দৃপ্ত উচ্চারণ ছিলো-
‘আমরা ভাতে মারবো
আমরা পানিতে মারবো। ’
বুমেরাং শব্দটি হয়তো তুমি জানতে না
আজ এদেশের অধিকাংশ নদী
বৃদ্ধা রমনীর মত শুষ্ক-ক্লীষ্ট
বুকে তার উত্তাল যৌবনের ঢেউ নেই
আছে হাড় জরজরা বুড়ির
কাঁচা পাকা শনের ন্যায় চুলসম
শুধুই বালুকাময় প্রান্তর।

হে পিতা
তোমার সোনার বাংলায় শতে চল্লিশজন
নুন্যতম খাদ্য থেকে বি ত
ক্ষুধা, অপুষ্টি আর রোগ-শোক
তাদের নিত্য সহচর।
তোমার অব্যয়ী বাণীর
কী বিকৃত অর্থই না আমরা করেছি-
আমরা ভাতে মরব
আমরা পানিতে মরব
আমরা মারবো তোমাকে।
আমরা কথা রেখেছি
তোমাকে নির্মমভাবে মেরেছি
ছোট ভাই রাসেলকে দেইনি বাঁচতে।
শুধু কি তাই?
ইতিহাসের নিকৃষ্টতম আইন
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ
তোমারই শ্রমে গড়া
পবিত্র সংবিধানে যুক্ত করে
সেটিকে করেছি কলংকিত।

হে পিতা
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী,
আমাদের অপরাধ তুমি কসুর করো
ইতিহাসের অক্ষয় কীর্তি
কেউ মুছে ফেলতে পারে না
পারবে না তোমাকেও মুছে ফেলতে
নরম কাদা জলে গড়া
বাংলার সরল মানুষের কোমল হৃদয় হতে।

হে পিতা
জাতির কান্ডারী,
তোমার সোনার বাংলায় এখন
ইনডেমনিট অধ্যাদেশ নেই
পটল-ফকরুল-আনোয়ার জাহিদেরা
তোমায় নাইবা মানল পিতা
কুসন্তানেরা এমনি হয়
পিতার মহৎ হৃদয় তোমার
তুমি ওদের মার্জনা করো।

হে পিতা,
তোমার সোনার বাংলায় তুমি রবে
ভোরের পাখির ডাকে
কৃষকের লাঙ্গলের ফলায়
কবি আর লেখকের কলমে
বাউলের একতারায়
সুরকারের সুরের মুর্চ্ছনায়
শিল্পীর রং তুলিতে
বাংলার প্রতি কণা মাটিতে
সবুজ বৃক্ষের সারীতে
আর মেহনতী মানুষের অন্তরে।

জল কাটলে দুভাগ হয় না
কেউ স্বীকার না করলেই
ইতিহাস মিথ্যে হয় না
ইতিহাস যে সতত বহমান
যেমন তুমি।

হে পিতা
বাংলার অবিসংবাদিত নেতা,
ডাক্তার তার ধারালো ছুরি দ্বারা
কেটে ফেলতে পারে পেট
তুলে আনতে পারে টিউমার
কিন্তু হৃদয়ে লেখা নাম?
পারে কি তা কেটে মুছে ফেলতে?
এ যে ভালোবাসায় লেখা নাম
মুছবার কোন পদ্ধতিই নেই যার।

হে পিতা
সোনার বাংলার রূপকার,
জাতির এ দুর্যোগে, তোমার মত
মহান নেতার বড় বেশি প্রয়োজন
অভিমান ভুলে
আবার ফিরে এসো-
তোমার বাংলাকে গড়ে তোল
কল্পিত রূপে।
তোমায় দিয়েছি যে অবহেলা
সে আমাদের অজ্ঞতা
অবাধ্য আর দুষ্ট ছেলেদের
ক্ষমা করে ফিরে এসো পিতা
তোমার সোনার বাংলায়।

২০.১১.৯৬ বুধবার সকাল ৭.১০

তোরা কী চাস?

-ড. ড.ি এম. ফরিোজ শাহ

শরে নাদে র্গজে ওঠনে নতো, ‘তোরা কী চাস?’
উত্তরে ছোটে ঘাতকরে বুলটে, ঢা ঢা ঠাস ঠাস।
ঊনশি’পচাত্তররে পনরে আগস্ট, ভোর শুক্রবার,
খুনী,বশ্বিাসঘাতকরো বাঙালদিরে মানয়িে দলি হার।

হত্যা করলো বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা,কামাল,জামাল ও শখে রাসলে
সকলরে বুক বদির্ণি করলো অগ্নগিোলক শলে
পাকস্তিানীরা পয়েছেলি লজ্জা-ভয়, হত্যা করনেি যাকে
বাঙালদিরে হাতে প্রাণ দতিে হলো জাতরি পতিা শখে মুজবিক।ে

এ হত্যা ব্যক্তি মুজবিকে নয়,স্বপ্ন হত্যা একটি জাতরি
বশ্বিে যনিি ছলিনে উদীয়মান নতো,সকলে করতো খাতরি।
নজি দশেরে মাট-িমানুষকে বাসতনে ভালো, ছলি বশ্বিাস অগাধ
তারাই তাঁকে করলো হত্যা, বন্ধ করল নঃিশ্বাস।

৭র্মাচ একাত্তরে কাব্যকি ভাষণে তনিি বলছেনে,’ ভাইয়রো আমার’
লক্ষ লক্ষ বাঙালি যোগ দয়িছেলি, ছলি কুল-িমজুর-কামার।
‘তোমাদরে যার কাছে যা কছিু আছ,েতা নয়িইে শ্ত্রুর মোকাবলো করতে হব’ে-তাঁর নর্দিশে
৯ মাসরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে স্বাধীন হলো বাংলাদশে।

মাত্র সাড়ে তনি বছররে শাসনে র্পুণগঠন করছেনে দশে
ওদকিে কুচক্রী-বশ্বিাসঘাতকদরে চক্রান্ত তখনো হয়নি শষে।
দশে-িবদিশেী ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে হত্যার জন্য করে হাসফাস
ঘাতকরে বুলটে বুকে নওেয়ার র্পূবে নতোর শষে কন্ঠ-‘তোরা কী চাস?’

ঢাকা, ০৩.১০. ২০২০


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.