এইমাত্র পাওয়া

চারিত্রিক উন্নতির পিছনে ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম

ভাষা হচ্ছে মানুষের চরিত্রের উৎকর্ষতা ও নিম্নতা মাপার একটি মাপকাঠি। ভাষা তিক্ত ও কঠোর হলে তার আঘাত হয় বড্ড ভয়ংকর এবং তার ক্ষত পৌঁছে যায় অনেক গভীর পর্যন্ত। ভাষার সুন্দর ব্যবহারের সর্বোচ্চ দিক হল, সকল নবী-রাসূল এ ভাষার মাধ্যমে তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার এর নেতিবাচক দিক খেয়াল করলে দেখা যাবে আখলাক এবং মানুষের যাবতীয় কাজ-কর্ম, চাল-চলনের সবচেয়ে বড় দুশমনও এটিই। আজকে ভাষা ও প্রচার মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে দুশমনদের নৈতিক স্খলন ও চারিত্রিক রোগ-ব্যধি আমাদের মধ্যেও অনুপ্রবেশ করছে।

এটা একটা সর্বজন স্বীকৃত কথা যে, আমাদের চারিত্রিক উন্নতির পিছনে ভাষার ভূমিকা অনেক। চরিত্র তখনই সুদৃঢ় হয় যখন এর ভিত্তি স্থাপিত হয় গভীর জ্ঞান এবং সঠিক পরিকল্পনার হাতে। আর জ্ঞানের সর্বপ্রকার প্রকাশও ঘটে এই ভাষার মাধ্যমে।
একারণে সুন্দর কথোপকথন জরুরি। কেননা সুন্দর ও শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা নবীগনের দায়েমী সুন্নাত । সুন্দর কিংবা ভালো ভাষা ও কথোপকথন কী-এ বিষয়ে কিছু কলাকৌশল হলো।

১. কথোপকথনের আকর্ষণ নির্ভর করে বক্তব্যের উদ্দেশ্যের ওপর। সুতরাং বক্তব্যের উদ্দেশ্য যত মহৎ হবে বক্তব্য ও কথোপকথন তত সুন্দর ও শ্রুতিকাম্য হবে। তাই অর্থহীন বাক্যবিনিময় থেকে বিরত থাকা একান্ত কর্তব্য।

২. সর্বদা সত্য কথা বলা নিজের জন্য অত্যাবশ্যকীয় করে নিতে হবে। কেননা, মিথ্যা সকল পাপের মূল । রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- সবচেয়ে বড় খেয়ানত হল, তুমি তোমার মুসলমান ভাইকে এমন একটি কথা বললে যা সে সত্য বলে মনে করল অথচ তা মিথ্যা। -আবু দাউদ।

৩. কথাবার্তায় ঐ সব বিষয় শামিল থাকা চাই যে বিষয়ে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আছে। নিজের বক্তব্যের সাথে কাজের মিল রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। বক্তব্য ও কাজের বৈপরীত্য থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায় এতে সমাজে বে-আমলীর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। কথা ও কাজের বৈপরীত্যের নিন্দা করে কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা মানুষকে ভালো কথা শোনাও অথচ নিজেরা তা ভুলে যাও!’ -সুরা বাকারা : ৪৪

৪. বাক্য প্রয়োগে কৃত্রিমতা ও লৌকিকতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। কেননা এসব মানুষের সাথে সম্পর্ক জোড়ার পরিবর্তে সম্পর্কের ভাঙন সৃষ্টি করে। নিজের সত্তাকে অন্যের সামনে সহজ-সরল রূপে প্রকাশের চেষ্টা করতে হবে।

অতএব, আমাদের উচিত হলো সদাসর্বদা সুন্দর ও শুদ্ধভাষায় কথা বলা। ভাষার মাধ্যমে কাউকে কষ্ট না দেয়া। সর্বোপরি চারিত্রিক উন্নতি সাধন করা। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের তাওফিক দান করেন।আমিন।

মোঃ হুসাইন আহমদ
শিক্ষার্থ, কওমি মাদরাসা টাংগাইল।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.