অনিশ্চয়তা নিয়েই অপেক্ষায় বিসিবি

নিউজ ডেস্ক।।

সব ঠিকঠাক থাকলে আজই শ্রীলঙ্কার বিমানে ওঠার কথা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। অথচ তার আগের দিনও কেউ জানে না, সফরটি আদৌ হবে কিনা। শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন ইস্যুতে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। আপাতত আজ থেকেই ক্রিকেটারদের অনুশীলনে বিরতি দেওয়া হয়েছে তিন দিন। বিসিবির আশা, এই সময়ের মধ্যেই চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।

সপ্তাহ দুয়েক ধরেই অবশ্য বিসিবি এই একই চক্করে আছে, ‘হচ্ছে’ বা ‘হবে’ কিংবা ‘দুই-তিন দিনের মধ্যেই হয়ে যাবে।’ কিন্তু এখনও হয়ে উঠছে না কিছুই। কারণ, শ্রীলঙ্কা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি নতুন কিছু। শ্রীলঙ্কা সফর আগের সূচিতে হলে, গতকালই ছিল অনুশীলনের শেষ দিন। এদিন পর্যন্ত তাই অনুশীলন সূচিও বানিয়ে রেখেছিল বিসিবি। কিন্তু সফর নিয়ে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় জরুরী সভায় বসেন প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী, অপারেশন্স চেয়ারম্যান আকরাম খান, দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন ও হাবিবুল বাশার।

সভা শেষে আকরাম জানান, জৈব-সুরক্ষা বলয়ে থাকা ক্রিকেটারদের অনুশীলনে তাই আপাতত বিরতি দেওয়া হচ্ছে, ‘আমরা বসেছিলাম শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে। প্রথমে তো কালকে (আজ) ফ্লাইট ছিল, কিন্তু যেহেতু যেতে পারছি না, কাজেই আমাদের পরিকল্পনা কি হবে তা নিয়ে নির্বাচক ও সিইওর সঙ্গে সভা করেছি। আমরা তিন দিনের বিরতি দিয়েছি। তারপর আবার আমরা অনুশীলন চালাব। আর আশা করছি দুই-তিনদিনের মধ্যে উত্তরটা আসবে শ্রীলঙ্কা থেকে।’ সফর শুরুর সময় যত পিছিয়ে যাচ্ছে, তাতে সফর আরও অনিশ্চয়তায় পড়ার কথা। তবে আকরাম জানালেন, আপাতত পিছিয়ে গেলেও সমস্যা নেই, ‘যেহেতু আমাদের সফর পিছিয়েই যাচ্ছে, হাতে সময় আছে যথেষ্ট। আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতেই পারি। যদি সব ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যায়, তাহলে আগামী মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের মাঝে আমরা যেতে পারি। যেহেতু ওদের প্রিমিয়ার লিগটা (এলপিএল) পিছিয়ে যাচ্ছে, কাজেই ওদের কাছেও সময় আছে।’

গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, খুব বেশি সময় অপেক্ষা করবে না বিসিবি এবং একবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেলে আর পিছপাও হবে না বোর্ড। সফরে যেতে মরিয়া বলেই কি এখনও অপেক্ষা করে চলেছে বিসিবি? আকরাম দিলেন ব্যাখ্যা, ‘আমরা মরিয়া নই। ব্যাপারটি হলো, এখন আমাদের হাতে সময় আছে, ওদের হাতেও আছে। ওরাই বারবার অনুরোধ করে আমাদেরকে বলছে যে ওদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বোঝাতে পারবে। এমন নয় যে ওরা চাচ্ছে না, আমরা জোর করে যাচ্ছি। মরিয়া হলে তো ওদের শর্ত মেনেই যেতে পারতাম। আমাদের তাড়াহুড়ো নেই। আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো ক্রিকেটারদের ভালো থাকা, ওরা যাতে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে না পড়ে এবং ওদের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্সটা যেন বের করে আনতে পারি। গিয়ে যেন ভালো পারফর্ম করতে পারি, সেটি নিশ্চিত করার জন্য যা দরকার, আমরা করব।’

সফর শেষ পর্যন্ত না হলে বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়াই আছে, জানালেন আকরাম, ‘প্র্যাকটিসে তিন দিনে বিরতি দিয়েছি আমরা, এর মধ্যে ফল চলে এলে তো হলোই। ক্রিকেটাররা টানা কিছুদিন প্র্যাকটিস করল, এমনিতেও বিরতি দরকার ছিল। আর সফর না হলে তো সভাপতি বলেছেন, একটা ঘরোয়া টুর্নামেন্ট হবে। কাজেই আমাদের প্ল্যান এ, বি, সি, সব করাই আছে।’

বায়ো সিকিউর বাবল বা জৈব সুরক্ষিত বলয়ের অংশ হিসেবে ২০ সেপ্টেম্বর থেকেই হোটেলে উঠেছিলেন ক্রিকেটাররা। সেদিন থেকেই চলছিল অনুশীলন। তবে এই বিরতির পাওয়ায় অনুশীলন শেষে হোটেলে গিয়ে আবার অনেক ক্রিকেটারই যার যার বাসায় ফেরত যাচ্ছেন। ঢাকার বাইরের ক্রিকেটাররা চলে আসছেন মিরপুর একাডেমি ভবনে। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ চৌধুরী জানান, সাময়িকভাবে এই বলয় ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন ক্রিকেটাররা, ‘এই তিনদিন বায়ো সিকিউর বাবলটা থাকছে না। হোটেল ছেড়ে সবাই বাসায় যাবে। আবার যখন অনুশীলন শুরু হবে তখন বাবল তৈরি করে নিতে হবে। অর্থাৎ আরেক দফায় কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হবে।

নেগেটিভ আসার ভিত্তিতে হোটেলে তোলা হবে।’ হোটেল ছেড়ে বেরুতে পারলেও ক্রিকেটারদের ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকে, ‘তবে এমনিতে আমরা সবাইকে বলে দিয়েছি যাতে সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে এই সময়ে না যায়। বাসাতেই থাকে।’

শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার আগে নতুন স্বাস্থ্য নির্দেশিকা হাতে পেতে হবে বিসিবির। সেটি হাতে পেতে আরও দুই-তিন অপেক্ষাতেই থাকবে বিসিবি। নির্দেশিকা হাতে পেলে তবেই নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবে বিসিবি। সব ঠিক থাকলে অক্টোবরের ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে শ্রীলঙ্কা যাবে বাংলাদেশ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.