এইমাত্র পাওয়া

দৌলতপুরে ডাক বিভাগের অনিয়ম- অযত্নে মৃতপ্রায় ডাকসেবা

মিজানুর রহমান।।

হারিয়ে যাচ্ছে হলুদ খাম, মিলিয়ে যাচ্ছে ঠিকানা। ঐতিহ্যের ডাক বাক্স বিলুপ্তকরণের খেলায় যেন নেমেছে খোদ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ডাক বিভাগ। এক কুড়ি কার্যালয়ের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের পোস্ট অফিস সম্পর্কিত সকল সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে এসব সেবা। এমন দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী বলছেন দায়িত্বরত ব্যাক্তিদের দায়িত্বহীনতা আর অনিয়ম দুর্নীতিই ঐতিহ্যের ডাকঘর কে অচল করে রেখেছে। মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছে না পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া সেবাগুলো।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সরকারি বরাদ্দের অফিস থাকলেও সেগুলোকে অকার্যকর রেখে যে-যার মতো কাজ করছেন শাখা ডাক ঘরের পোস্ট মাস্টার সহ অন্যান্যরা। একেকটি কার্যালয়ে অন্তত ৩ জন করে থাকার কথা থাকলেও এসব নিয়ম-কানুন দৌলতপুরে দুর্ভাবনীয়। প্রধান কার্যালয়সহ উপজেলার প্রায় সবগুলো ডাক বাক্সই নিরাপত্তাহীন আর অব্যবহৃত। ঠিকঠাক দায়িত্বেও পাওয়া যায়নি কর্মকর্তা-কর্মচারীর অধিকাংশকে।

কেও কেও আবার ডাক ঘর কে বানিয়েছেন নাম মাত্র স্থাপনা। সোলার,প্যানেল,কম্পিউটারসহ অন্যান্য দামি যন্ত্রপাতি আর আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে অযত্ন অবহেলায়। অতিব জরুরি দু’একটা অফিসিয়াল কাগজপত্র কালেভদ্রে হাতবদল ছাড়া এসব ডাকঘরে চাইলেও কেউ নিতে পারবেনা সচরাচর ডাক সেবা। ডাকপিওনের কার্যক্রম সহজেই বোঝা যায় ডাক বাক্সের হালচাল দেখে। দু-একটি ডাকবাক্স দেখা গেলেও তাতে নেই কোন নিরাপত্তামূলক তালা। স্থানীয়রা মন্তব্য করেন, এসব বাক্সে ফেলা চিঠি ঠিকানায় পৌঁছবে বলে কোন নিশ্চয়তা নেই।

আরেকদিকে, উদ্যোক্তা নির্ভর ‘ই-সেন্টার’র বেহাল দশা বঞ্চিত করছে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের, কোথাও ভর্তি বাণিজ্য আর কোথাও সম্পূর্ণ অকার্যকর। ই-সেন্টারে শিক্ষিত বেকার-যুবকদের উদ্যোক্তা হওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে মানা হয়নি সে-সব শর্ত। কোন কোন ই-সেন্টার বছরেরও বেশি সময় নিশ্চিহ্ন থাকলেও খোঁজ নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। এদিকে,সংশ্লিষ্টদের দাবি প্রায়ই না-কি পরিদর্শন করেন উর্ধতন কর্মকর্তারা।

তবে, অভিযোগ আর বাস্তবতার দায়ভার এড়িয়ে যেতে পারেননি উপজেলা পোস্ট মাস্টার আবু সালেহ। উপযুক্ত কোন যুক্তিই দাড় করাতে পারেননি অযত্ন অবহেলা আর বেহিসাবি বিভাগ পরিচালনার। বরং এই কর্মকর্তার অনুরোধ– মিথ্যে করে হলেও লিখতে হবে ইতিবাচক সংবাদ।

এ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় পরিদর্শক অলোক কুমারের মতে বিষয়গুলো অপ্রত্যাশিত। দৌলতপুরে ডাক বিভাগের অচলাবস্থার তথ্যও নেই তার কাছে।

চাপা কষ্টের জনপদে আশার কথা হলো, দু’একটি ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের আন্তরিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে ই-সেন্টারের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। সরকারি সনদ নিয়ে কম্পিউটার শিক্ষায় প্রশিক্ষিত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

একজন উদ্যোক্তা যুবক সেতু জানান, উদ্যোক্তাদের আন্তরিকতা থাকলে ডাক বিভাগের মাধ্যমে এই ই-সেন্টার প্রশিক্ষনার্থীদের স্বপ্নপূরণ করতে পারে, ই-সেন্টারের প্রকল্পগুলো দিয়ে আসতে পারে রাষ্ট্রীয় সফলতা।

উপজেলার দু’একটি ছাড়া অযতœ অবহেলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিটি ডাকঘর।

এছাড়া, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে হারানো ঐতিহ্যের অনেকটাই ফিরে পাবে চিঠি-পত্র; আর অন্যান্য সেবায় সমৃদ্ধ হবে দৌলতপুর,এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.