জাতিয়করণের অপেক্ষা; কতদূর!

শিক্ষা জীবনের জন্য। এই চির সত্য প্রবাদটির উপলব্ধি আজ সুদূর পরাহত। শিক্ষার ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা তথা প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাই জাতির জনক প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের শুরুতেই । এটি ছিল একটি যুগান্তকারী এবং সঠিক দেশনায়কোচিত পদক্ষেপ। তারপরের সরকারগুলোর দরকার ছিল মাধ্যমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণের পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরেও শিক্ষা কর্তাদের সেই উপলব্ধি হয়নি। যা জাতির জন্য দূর্ভাগ্য ও হতাশার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খেটে খাওয়া গ্রাম বাংলার মেহেনতি মানুষ।

আজ পর্যন্ত গ্রাম বাংলার কোথাও মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ছোঁয়া লাগেনি। বিচ্ছিন্ন জাতীয়করণ উপজেলাকেন্দ্রিক স্পর্শ করে গেছে। একই যোগ্যতা ও অবকাঠামো থাকা সত্বেও গ্রাম তথা পাশ্ববর্তী বিদ্যালয়গুলোকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। ফলে অভিভাবক, শিক্ষার্থী তথা শিক্ষকের মনে বিষয়টি দাগ রেখে গেছে। যা কখনও শিক্ষায় ভারসাম্য আসার ইংগিত বহন করে কি?

এখনও ১০০০ টাকার বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকার চিকিৎসা ভাতায় চলছে বেসরকারি এমপিও ভুক্ত শিক্ষক । নেই শিক্ষা ভাতা, বদলি, পেনশন! আছে ১০% কর্তন ও ম্যানেজিং কমিটির অযাচিত খবরদারি, অবসরের নিজের দেওয়া চাঁদা সঠিক সময়ে না পাওয়ার জীবন বিয়োগের নিমর্ম বাস্তবতা।

সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা কেন্দ্রিক একটি করে স্কুল ও কলেজ সরকারিকরণের মধ্য দিয়ে শিক্ষায় এক বিরাট বৈষম্য সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। বেছে বেছে কিছু স্কুল জাতীয়করণের অর্থ হচ্ছে শিক্ষায় এক ধরনের ইচ্ছাকৃত বৈষম্য সৃষ্টি করা। দেশ স্বাধীন, সরকার জনগণের ইচ্ছাপূরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। এখন তো দেশ উন্নত রাষ্ট্রের দোরগোড়ায়। তারপরও কেন শিক্ষায় এই খামখেয়ালিপনা ?

জীবিকার জন্য কত কিছুই না করা হচ্ছে কিন্তু জীবনের জন্য যা তা নিয়ে চলছে চরম অনৈক্য ও সিদ্ধান্তহীনতা। যা একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের কাম্য হতে পারে না।

এখনও মাধ্যমিক শিক্ষায় বেশ খরচ করেই পড়তে হচ্ছে কৃষকের সন্তানদের। স্বাধীনতার এতকাল পরে মাধ্যমিক শিক্ষায় বেতনাদি বহন; এটা কোন বার্তা বহন করে না।

তাই সময় ক্ষেপণ না করে আশু জাতীয়করণ অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী তথা সকলের চাওয়া।

লেখকঃ শাহআলম সরকার

সহকারী শিক্ষক ( সমাজ বিজ্ঞান)

বাংগালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়

অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.