ফাইনালে রাতে মাঠে নামছে সেভিয়া-ইন্টার মিলান

শিরোপার লড়াইয়ে রাতে ইতালিয়ান ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ সেভিয়া। জার্মানির কোলনে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
ইন্টারের সামনে এবার চতুর্থ শিরোপার হাতছানি। সময়টাও দারুণ যাচ্ছে ইতালিয়ান ক্লাবটির। সিরি আয় দুর্দান্ত এক মৌসুম শেষ করেছে ইন্টার মিলান। এবার ইউরোপা লিগে ১০ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে চায় কন্তের দল।
দুই দলের কেউই এর আগে কখনো মুখোমুখি হয়নি, প্রথমবার দেখা হচ্ছে তাদের, তাও আবার ফাইনালে। সেভিয়া এবং ইন্টার মিলানকে ইউরোপা লিগের অভিজাত বললে মোটেও অত্যুক্তি হবে না। রেকর্ড পাঁচবার ইউরোপা লিগ জিতেছে সেভিয়া আর ইন্টার জিতেছে তিন বার।
সেভিয়া গত এক দশকে এই ট্রফি তিনবার ঘরে তুলতে পারলেও এই সময়টায় ইন্টারের ট্রফির খাতা শুন্য থেকেছে। শেষ ২০১০-১১ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল সান সিরোর দলটি। এরপর থেকে মাঠের পারফরম্যান্স গ্রাফ শুধু নিচের দিকেই গেছে। অবশেষে সাবেক জুভেন্টাস ও চেলসি ম্যানেজার আন্তোনিয়ো কন্তের হাত ধরে এবার ভাগ্য বদলেছে দলটির। সিরি আ-তে চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসের চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে মৌসুম শেষ করেছে ইন্টার, আর ইউরোপা লিগেও শিরোপা থেকে মাত্র ১ জয় দূরে রয়েছে তারা।
অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদে টিকতে না পারা হুলেন লোপেতেগির হাত ধরে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে সেভিয়া। উনাই এমেরির অধীনে টানা ৩ বার ইউরোপা লিগ জিতেছিল তারা। এরপর দুই মৌসুম চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলে গত মৌসুমে আবারও ইউরোপা লিগে ফিরেছিল সেভিয়া। কিন্তু স্লাভিয়া প্রাহার কাছে হেরে শেষ ষোল থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। এবার লোপেতেগির অধীনে আবারও ফাইনালে উঠে আসল দলটি।
৪-৩-৩ ফরমেশনে সেভিয়াকে খেলানো লোপেতেগি ক্লাবে আসার পর থেকেই পজিশনাল ফুটবলের ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের থেকে বল দূরে রাখা যায়। তবে ট্যাকটিকসের দিক দিয়ে লোপেতেগি কতটা সফল হয়েছেন সেটা সময়ই বলে দেবে। কারণ সেমিফাইনালে তার ট্যাকটিকস খুব একটা কাজে দেয়নি। গোলরক্ষক বোনো ইউনাইটেডের দুর্দান্ত অ্যাটাকারদের সামনে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই রক্ষা পেয়েছিল সেভিয়া, নয়ত ম্যাচের ফলাফল অন্য রকমও হতে পারত। ইন্টার মিলানের দুর্ধর্ষ স্ট্রাইকারদ্বয় লাউতারো মার্টিনেজ এবং রোমেলু লুকাকুদের ঠেকাতে নতুন কৌশলে না গেলেও বর্তমান ফরমেশনটিকেই আরেকটু সুগঠিত করতে হবে লোপেতেগিকে।
অপরদিকে থ্রি ম্যান ব্যাকলাইন নিয়ে খেলে ইন্টার মিলান। স্বাভাবিকভাবেই দুই ফুল ব্যাক অনেকটা ওপরে উঠে খেলার সুযোগ পায়। কিন্তু এতে করে খেলায় যতটা গতি সঞ্চার হওয়ার কথা, সেটি হয় না বললেই চলে। মূলত দুই ফরোয়ার্ড দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় কাজ চলে যাচ্ছে কন্তের। তবে সেভিয়ার মতো দলের বিপক্ষে ফাইনালে ভালো কিছু করতে হলে খেলায় আরও গতি নিয়ে আসতে হবে তাদের।

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.