নিউজ ডেস্ক।।
করোনা মহামারীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। টেলিভিশনেও প্রচার হচ্ছে রেকর্ড করা বিষয়ভিত্তিক ক্লাস া কিন্তু এভাবে পাঠ নিতে দীর্ঘসময় টেলিভিশন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থেকে এবং হেডফোন ব্যবহারে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা। অনলাইনে ক্লাসের মাত্রাতিরিক্ত সময় নির্ধারণ, নিরস উপস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের কাছে দিন দিন এ ক্লাসের আকর্ষণ ফুরিয়ে যাচ্ছে।
রাজধানীর উত্তরার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা তৃণা। তার স্কুলের শিক্ষকরা প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত অনলাইনে লাইভ ক্লাস নেন। শুরুতে নিয়মিত অংশ নিলেও
এখন তৃণা ক্লাস করতে চায় না বলে জানান তার বাবা মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘ চার ঘণ্টা ক্লাস নেয়, এতে মেয়ের বিরক্তি এসে যায়, এতক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকাও কষ্টকর। এ ছাড়া ইন্টারনেট গতি কম হলে ক্লাসের শব্দ ঠিক মতো শোনা যায় না। হেডফোন ব্যবহারের ফলে কান ও মাথায় গরম অনুভূতি হয় বলে বাবাকে জানিয়েছে তৃণা। এ বিষয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে পরামর্শ দেওয়া হয়, অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে তৃণাকে হেডফোন ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না, লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে হবে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মৌসুমী আক্তার জানান, সংসদ টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাসগুলো একেবারে প্রাণহীন। শিক্ষক নিজের মতো করে বলে যাচ্ছেন, বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছে কি না তা জানানোর উপায় নেই। তবে স্কুল শিক্ষকদের অনলাইন মেটেরিয়ালগুলো কিছুটা চর্চা করা যায়। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী কতক্ষণ কম্পিউটারে বসে থাকবে? এটা বড় ধৈর্যের বিষয়। কারণ বিষয়ভিত্তিক একেকটি শ্রেণির দশ-পনেরোটি করে লেসন অনলাইন থেকে দেখতে হয়। তিন-চার ঘণ্টা কম্পিউটারের স্কিনে দেখতে দেখতে চোখের সমস্যা হচ্ছে তার ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ের।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহাবুব হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমাদের নজরে আসেনি। বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শিশুদের শিক্ষার সঙ্গে স্বাস্থ্যগত বিষয়ে গুরুত্ব দেব। অনলাইন ক্লাস নিয়ে কোনো গাইডলাইন না থাকায় যে যার মতো করে পরিচালনা করছে। আমরা একটি গাইডলাইন তৈরি করতে পারি। আমি এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে বলব। কারিগরি বিশেজ্ঞদের মতামত নিয়ে এটি চূড়ান্ত করা হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রযুক্তিবিদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, অনলাইন ক্লাসের ধারণা পুরনো হলেও বাংলাদেশে ব্যবহার নতুন। করোনা মহামারীতে এ পদ্ধতি ব্যাপকহারে ব্যবহার শুরু হয়। এ পদ্ধতির সুবিধা অসুবিধা নিয়ে কোনো গবেষণা বা সমীক্ষা হয়নি। ভিজুয়্যাল ক্লাসগুলোর ব্যাপ্তি কত সময় হবে, গ্রাফিক্স কী হবে, কোন ধরনের সাউন্ড ব্যবহার হবে সে সম্পর্কে এগুলো যারা পরিচালনা করছেন তাদের কারিগরি জ্ঞানেরও ঘাটতি আছে। যে কোনো প্রযুক্তির সুবিধা অসুবিধা দুটিই আছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি গাইডলাইন করা উচিত সরকারের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর সৈয়দা তাহমিনা আখতার বলেন, দুর্যোগকালে কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই অনলাইন ক্লাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। যে কোনো নতুন বিষয় শুরুতে নানা রকম ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা দেয়, এ ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। এ পদ্ধতি যেহেতু এখন প্রাত্যহিক ব্যবহার করতে হবে, কারিগরি বিষয়, স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয় খেয়াল রেখে কীভাবে এ পদ্ধতি ব্যবহার হবে একটি গাইডলাইন থাকা দরকার।
গত ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় অনলাইনে ক্লাস চালুর নির্দেশনা দেয় সরকার। সরকারি উদ্যোগেও টেলিভিশনে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ভোকেশনাল, মাদ্রাসার ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফরম ব্যবহার করে ক্লাস চালু করেছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
