আহ্বান

আহ্বান
মোঃ সাইদুল ইসলাম
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ,নোয়াখালী

আমার গাঁয়ের চারিপাশ সবুজ মাঠে ঘেরা,
ফুল ফসলে অতুলনীয়, সকল গাঁয়ের সেরা।
একপাশে তার ছোট্ট নদী বহে ক্ষীণ কায়া,
বাগ- বাগিচার তলায় তলায় গাছের শীতল ছায়া।
গাঙ্গের হাওয়া নিরবধি বহে বারো মাস,
ধান, কাউন আর পাটের ক্ষেতে চাষী করে চাষ।
রাখাল ছেলে নদীর চরে চড়ায় তাহার ধেনু,
উদাস মনে বটের মূলে বাজায় বাঁশের বেণু।
আমার গাঁয়ের এক পাশে তার মাঠের মাঝে বিল,
শাপলা শালুক ফুলের বাহার লাল, সাদা আর নীল।
কলমি লতার মালা গলে খোপায় দিয়ে ফুল,
গাঁয়ের মেয়ে শামুক কুড়ায় লতায় বেঁধে চুল।
আমার গাঁয়ের এক পাশে তার রেললাইনের পথ,
সে পথ দিয়ে ট্রেন চলে যায় সকাল-দুপুর-রাত।
বিশাল দ’হ “ছাগলা-পাগলা” আছে আমার গাঁয়,
নিত্য সেথায় ঢেউ খেলে যায় লাগলে পুবান বায়।
কাজল কালো দিঘির জলে ভাসে পদ্মফুল,
গুন গুন গুন গানে গানে বেড়ায় অলিকুল।
আমার গাঁয়ের খোলা মাঠে সরষে ফুলে ভরা,
হলদে ফুলের মন মাতানো গন্ধে আকুল করা।
আমার গাঁয়ের মেঠো পথে বুনো লতার ঝোপে,
হরেক রকম ফুল ফুটে রয় চোখ ধাঁধানো রূপে।
দেখবে সেথায় পল্লীবালা আলতা রাঙা পায়,
ঝিনুক মালার নূপুর পরে ঝলকে চলে যায়।
আমার গায়ে বাঁশ বাগানের মাথায় বসে চাঁদ,
সারানিশি জোছনা ছড়ায় পেতে মোহন ফাঁদ।
আমার গাঁয়ে ভোরের বেলায় সূর্য ওঠার আগে,
দোয়েল শ্যামা শিস দিয়ে যায় বাড়ির পাশের বাগে।
দেখবে সেথা সবুজ ধানে ঘাস ফড়িং এর খেলা,
ধানের ক্ষেতে ঢ়েউ খেলে যায় বাতাস সারাবেলা।
আমার গাঁয়ের দিঘির জলে নাইতে বড় সুখ,
দুঃখ কষ্ট সব ভুলে যাই দেখলে মায়ের মুখ।
সোনাদিয়া গড়া যেন রুপার ছড়াছড়ি,
পথের ধুলায় করে সেথা মানিক গড়াগড়ি।
বনের ছায়া বোনের মায়া দেখবে নিরবধি,
আমার গাঁয়ে এসব পাবে একবার আসো যদি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.