বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহকারী রেজিস্ট্রার পদ থেকে শারমিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বরখাস্ত করে। শুক্রবার রাতে তিনি গ্রেফতার হন। শনিবার থেকে তিনি তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সহকারী রেজিস্ট্রার শারমিন জাহান শিক্ষা ছুটিতে থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার এ ব্যবসা পরিচালনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও চাকরি শৃঙ্খলার পরিপন্থী। নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এমন অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার পদ থেকে শারমিন জাহানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হল। একই সঙ্গে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাকে দিতে বলা হয়েছে।
নকল মাস্ক সরবরাহের দায়ে শারমিন জাহানের বিরুদ্ধে ২৩ জুলাই মামলা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় বলা হয়, বিএসএমএমইউ হাসপাতালে মাস্ক সরবরাহের অনুমতি পায় শারমিনের প্রতিষ্ঠান অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নকল মাস্ক সরবরাহ করে। এ মাস্ক ব্যবহার করে চিকিৎসক ও রোগী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। একই সঙ্গে নকল মাস্ক সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। শুক্রবার রাতে তাকে শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নকল ও নিম্নমানের মাস্ক সরবরাহের মামলায় অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের মালিক শারমিনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মইনুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
জানা গেছে, অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ লটে যথাক্রমে এক হাজার ৩০০, ৩৬০, এক হাজার ও ৭০০ পিস ফেস মাস্ক সরবরাহ করে। এর মধ্যে ১ম ও ২য় লটের মাস্ক গ্রহণ, বিতরণ ও ব্যবহারে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু ৩য় ও ৪র্থ লটের মাস্ক বিতরণ ও ব্যবহারে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। মাস্কগুলোর গুণগত মান স্পেসিফিকেশন অনুসারে পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো মাস্কের বন্ধনী ফিতা ছিঁড়ে গেছে। কোনো কোনো ফেস মাস্কের ছাপানো লেখায় ত্রুটিপূর্ণ ইংরেজি লেখা পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৈরি সামগ্রীতে ইংরেজিতে বানান ভুল থাকার কথা নয়। কোনো কোনো মাস্কে নিরাপত্তা কোড ও লড নম্বর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইডে প্রাপ্ত প্রমাণসিদ্ধতা বা সঠিকতা যাচাই করা যায়নি। এর ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে মাস্কের গুণগত মান নিম্নমানের। আবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের মালিক শারমিন জেনেশুনে কোভিড-১৯ সম্মুখ যোদ্ধাদের মাস্ক সরবরাহে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। মামলার মূল হোতাসহ সহযোগী আসামিদের গ্রেফতার ও আসামিকে নিয়ে অভিযান চালানোর স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেয়া একান্ত জরুরি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল