দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে বছর দুয়েক আগে দশ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন গৃহিনী ফরিদা আক্তার। স্বামীর বেতনের সঙ্গে প্রতি মাসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বাবদ ৮ হাজার ৬৪০ টাকা যোগ হওয়ায় তাদের পাঁচজনের পরিবার মোটামুটি মসৃণভাবেই চলছিল। কিন্তু তাতে বাধ সেধেছে করোনাভাইরাসের মহামারী।
রবিবার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, এই মহামারীর মধ্যেও বিপুল সংখ্যক মানুষ মুখে মাস্ক পড়ে ভিড় জমিয়েছেন সঞ্চয়পত্রের কাজের জন্য।
তাদের কেউ মাসের মুনাফার টাকা তুলতে এসেছেন, অনেকে এসেছেন বিনিয়োগ করার টাকা ভাঙ্গানোর আবেদন জমা দিতে। কেউ আবার আগে আবেদন করার টাকা তুলতে এসেছেন। খুব কম মানুষই নতুন সঞ্চয়পত্র কিনছেন।
শুধু সঞ্চয়পত্র নয়, এই মাহামারীকালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপোজিট প্লাস স্কিম (ডিপিএস) ও ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) ভেঙেও সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন অনেকে। পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দায় তলানিতে নেমে আসা শেয়ার কেউ কেউ বড় লোকসানে দিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছেন কিছু নগদ টাকা হাতে রাখার জন্য।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি ডিপিএস খুলেছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুল হাই টুটুল। প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে জমা রাখতেন। দুই বছর পার করে এখন আর তিনি সেই টাকা টানতে পারছে না। মহামারীর মধ্যে ব্যবসা প্রায় বন্ধ। সেই ডিপিএস তিনি ভেঙে ফেলেছেন।
২০১৬ সালের শেষ দিকে পুঁজিবাজারে দশ লাখ টাকার মত বিনিয়োগ করেছিলেন গোবিন্দ্র চন্দ্র দাশ। সেটা এখন কমতে কমতে চার লাখে ঠেকেছে।
যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গোবিন্দ চাকরি করেন, তারা এখনও বিদায় করে দেয়নি। তবে বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে লোকসানে থাকা শেয়ারগুলোই বিক্রি করে দিতে হয়েছে গোবিন্দকে।
“কিছুই করার নাই রে ভাই, মরার উপর খাঁড়ার ঘা। দশ লাখ টাকার শেয়ার চার লাখ টাকায় বিক্রি করে দিতে হল।”
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
